মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রী বাপের বাড়ি চলে গিয়ে ৪ দিন পর পূনরায় ফিরে এসে স্বামীর ঝুলন্ত ও পঁচে বিকৃত হয়ে যাওয়া মরদেহ দেখতে পান ডলি বেগম নামে এক নারী। পরে পুলিশ খবর দিলে পুলিশ ওই মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেছেন।
সোমবার (৮ জুন) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার কলমা ইউনিয়নের ডহুরি মরৈল গ্রামে নিজ বসতঘর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত ইলিয়াস মাঝি (৩৮) ডহুরি গ্রামের বাসিন্দা এবং ব্রুনাই প্রবাসী ছিলেন। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, চার দিন আগে ইলিয়াস মাঝির সঙ্গে তার স্ত্রী ডলি বেগমের ঝগড়া হয়। পরে রাগ করে ডলি বেগম পাশেই তার বাবার বাড়িতে চলে যান। এ সময় ইলিয়াস মাঝি নিজ ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে দেন। এরপর টানা চার দিন তাকে বাইরে দেখা যায়নি এবং ঘরও খোলা হয়নি।
সোমবার বিকেলে বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হলে ডলি বেগম ঘরে প্রবেশ করে দেখতে পান, তাদের বসত ঘরের দ্বিতীয় তলার সিঁড়ির সঙ্গে রশি বেঁধে ঝুলে আছেন তার স্বামী। এ সময় মরদেহ ফুলে গিয়ে চেহারা বিকৃত হতে শুরু করেছিল। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশকে খবর দেওয়া হলে লৌহজং থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
এ ব্যাপারে লৌহজং থানার (ওসি) মো. বোরহান উল ইসলাম মঙ্গলবার বেলা ২ টার দিকে বলেন, ওই প্রবাসীর ঘরের দরজার পাশ হতে ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। লাশটি পঁচে মাছি জড়িয়ে ছিল। কতদিন আগে মৃত্যু হয়েছে তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়ার বিষয়টি পরিবারের কাছ থেকে শুনেছি।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST