সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার উত্তর বংশীকুন্ডা ইউনিয়নের মহিষখলা বাজার-ঘেঁষা মহিষখলা নদী যেন হাজারো মানুষের কাছে এক দীর্ঘশ্বাসের নাম। নদীর বুকে একটি স্থায়ী সেতুর অভাবে যুগের পর যুগ ধরে চরম ভোগান্তি সঙ্গী করে চলেছেন এপার-ওপারের বাসিন্দারা। বর্ষায় উত্তাল নদীতে নৌকাই শেষ ভরসা, আর হেমন্ত-শীতে প্রাণ হাতে নিয়ে পার হতে হয় নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো।
মহিষখলা নদীর এপারে প্রাণচঞ্চল মহিষখলা বাজার, ওপারে সীমান্তঘেঁষা বান্দ্রা বহেরাতলীসহ কয়েকটি গ্রাম। প্রতিদিন এই পথে জীবনের তাগিদে ছুটে চলেন শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবী। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হয় কোমলমতি শিক্ষার্থী ও মুমূর্ষু রোগীদের। সামান্য বৃষ্টিতেই নদী ফুঁসে উঠলে স্কুল-কলেজে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। জরুরি রোগীকে হাসপাতালে নিতে গিয়েও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় একটি নৌকার জন্য।
স্থানীয়দের ক্ষোভ, “স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও আমরা একটি সেতুর মুখ দেখলাম না। শীত এলে নিজেরা চাঁদা তুলে বাঁশের সাঁকো বানাই। সেই সাঁকোই আমাদের মরণফাঁদ। কখন ভেঙে পড়ে, কে জানে! ছোট ছোট বাচ্চাগুলোকে বুকে নিয়ে পার হই।”
বান্দ্রা গ্রামের বাসিন্দা মুসলিম উদ্দিন ও বিল্লাল মিয়া বলেন, “এই সেতু আমাদের মৌলিক অধিকার। এটি হলে শুধু হাজারো মানুষের নিরাপদ চলাচলই নিশ্চিত হবে না, বরং সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলের অপার সৌন্দর্য পর্যটকদের কাছে উন্মোচিত হবে। পর্যটন বাড়লে আমাদের হাট-বাজার জমবে, মানুষের আয়-রোজগার বাড়বে। পুরো এলাকার অর্থনীতির চিত্রটাই পাল্টে যাবে।”
বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নুর নবী তালুকদার জানান, “এলাকাবাসীর এই প্রাণের দাবির সঙ্গে আমি একাত্ম। সরকারি বরাদ্দের অভাবে আমি নিজের টাকায় প্রতি বছর বাঁশের সাঁকো আর নৌকার ব্যবস্থা করি। কিন্তু এটা তো স্থায়ী সমাধান নয়।” তিনি আরও বলেন, “নদীর ওপারে বিজিবি ক্যাম্প রয়েছে। একটি স্থায়ী সেতু হলে সীমান্তের নিরাপত্তা জোরদার হবে, চোরাচালান রোধ সহজ হবে এবং মহিষখলা বাজার আরও সুরক্ষিত থাকবে।”
মধ্যনগর উপজেলা প্রকৌশলী (দায়িত্বপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ শাহাবউদ্দিন বলেন, “আমরা বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করছি। মহিষখলা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের একটি পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রশাসনিক অনুমোদন ও বরাদ্দ পেলেই আমরা দ্রুত কাজ শুরু করতে প্রস্তুত।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST