লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চরশাহী ইউনিয়নে প্রবাসে অবস্থান করে একাধিক রাজনৈতিক নেতাকে হত্যার পরিকল্পনা এবং এলাকায় ত্রাস সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে হৃদয় ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, ২০২৩ সালে সংঘটিত একটি বড় ডাকাতির ঘটনায় তার সম্পৃক্ততা ছিল এবং সেই অর্থ ব্যবহার করে তিনি এলাকায় একটি সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলেছেন।
ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালে চরশাহী ইউনিয়নের বাসিন্দা আদনান হোসেনের বাড়িতে একদল সশস্ত্র ডাকাত হানা দিয়ে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কারসহ প্রায় ১৫ থেকে ২০ লক্ষ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। একই সময়ে আশপাশের এলাকাতেও চুরির একাধিক ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব ঘটনার নেপথ্যে হৃদয় ভূঁইয়ার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। ডাকাতির মাধ্যমে পাওয়া অর্থ দিয়েই তিনি একটি সংগঠিত সশস্ত্র দল গঠন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হৃদয় ভূঁইয়ার কথিত কিছু অডিও রেকর্ড ছড়িয়ে পড়ে। এসব অডিওতে তাকে প্রবাস থেকে স্থানীয় সন্ত্রাসীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিকে টার্গেট করার বিষয়ে কথাবার্তা বলতে শোনা যায় বলে দাবি করা হচ্ছে। আলোচিত ব্যক্তিদের মধ্যে রাসেল ভূঁইয়া, আদনান হোসেন, মিজান উদ্দিন, সংগ্রাম হোসেন জুয়েল ও তানজিদ আহমেদের নাম উঠে এসেছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় উদ্বেগ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, হৃদয় ভূঁইয়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ছবি তুলে নিজেকে প্রভাবশালী হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করছেন। যদিও সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তি তার কর্মকাণ্ডের দায় অস্বীকার করেছেন, তবুও এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক কাটেনি। সম্ভাব্য ঝুঁকিতে থাকা অনেকেই নিরাপত্তাহীনতার কারণে দেশে ফিরতে বা স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছেন না বলে জানা গেছে।
এদিকে চরশাহী এলাকার সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। সচেতন মহল বলছে, প্রবাসে অবস্থান করে এ ধরনের কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তারা বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST