মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার মধ্য বাঘড়া গ্রামের মরহুম আলিমুদ্দিনের ছেলে কালাচান । মাতৃ গর্ভহতেই প্রতিবন্ধী হয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি অস্পষ্ট কথা বলেন ও শ্রবণ শক্তি কম।
জন্ম গ্রহণের কয়েক বছর পরে তার পিতা মারা যান।
পিতা মারা যাওয়ায় প্রতিবন্ধী হওয়া সত্বেও কিশোর বয়সে তাকে ছুটতে হয় কাজের সন্ধানে।
প্রথম দিকে তিনি শ্রমজীবী কাজ করতেন।
অস্পষ্ট কথা ও শ্রবণশক্তি কম থাকার কারণে নিয়োগ কর্তা কাজে না নেয়ায় বাধ্য হয়ে তিনি রিক্সা চালাতে শুরু করেন।
যান চলাচলের চালকগণ সাইড দেওয়া সংকেত দেয়ার পরও কানে না শোনার কারণে পরপর কয়েকটি বড় ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি । প্রায় দুই বছর তাকে শয্যাশী হয়ে থাকতে হয় ।
এ সময় তিনি কর্মহীন হয়ে পড়লে তার নিকটতম আত্মীয়-স্বজন পাড়া-প্রতিবেশী আর্থিক সহযোগিতা করে এ অর্থ দিয়ে চলে তার চিকিৎসা ও সংসার ।
সুস্থ হওয়ার পর তিনি আর ঘরে বসে থাকেননি । সংসার পরিচালনায় কারো কাছে হাত পাতেন নি। তিনি তার কাজের ধরন পাল্টিয়ে ভ্যানে করে গ্রাম অঞ্চলে ঘুরে সবজি বিক্রি করেন।
এতে যা আয় হয় তা দিয়ে চলে তার সংসার।
গ্রাম অঞ্চলে গৃহবধূরা তার কাছ হতে এসব সবজি ক্রয় করেন।
গ্রামের গৃহবধূদের কাছে সবজি বিক্রি করলেও অতিরিক্ত দাম নেন না বলে জানালেন গৃহবধূ সালমা ও আসমা ।
তারা আরো জানান ,কালাচান ভাইয়ের সবজির মানসম্মত দাম বাজার সমতুল্য ।
মানুষের কাছে হাত না পেতে
কাজ করায় স্থানীয়রা তার প্রশংসা করেন ।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST