মানিকগঞ্জের গোলড়া চরখন্ড গ্রামে শিল্পকারখানার বর্জ্যে কৃষিজমি ও নদী দূষণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, আকিজ টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডের নির্গত বিষাক্ত পানিতে ভুট্টাসহ বিভিন্ন ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, পাশাপাশি মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে ধলেশ্বরী নদীর জীববৈচিত্র্য।
গ্রামের বাসিন্দা আক্কেল আলী মাতবরের স্ত্রী বলেন, কারখানার বর্জ্য যে পথে প্রবাহিত হয়, সেই পথের জমি যেন পুড়ে যাচ্ছে। “বিষাক্ত পানিতে আমাদের ভুট্টা ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে,” বলেন তিনি।
একই গ্রামের ভুক্তভোগী ও জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল মানিকগঞ্জ জেলা শাখার আহ্বায়ক কমিটির সদস্য রাজিব হাসান অভিযোগ করেন, কারখানার বর্জ্য ফেলার প্রতিবাদ করায় অতীতে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, “ফ্যাক্টরি চালুর পর থেকেই ধলেশ্বরী নদী ও আশপাশের জমিতে বিষাক্ত বর্জ্য ফেলা হচ্ছে।”
স্থানীয়দের ভাষ্য, একসময় মাছের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত ধলেশ্বরী নদীতে এখন মাছের দেখা মেলে না। দেশি প্রজাতির বিভিন্ন মাছ বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া দূষিত পানিতে গোসল করে অনেকেই চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন বলেও অভিযোগ তাঁদের।
রাজিব হাসান আরও জানান, সম্প্রতি কারখানার ভেতর থেকে নির্গত কেমিক্যালযুক্ত পানিতে তাঁর এবং প্রতিবেশীদের কয়েক বিঘা জমির ভুট্টাসহ অন্যান্য ফসল পুড়ে গেছে। বিষয়টি কারখানা কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি, কারখানার বিরুদ্ধে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে জমি দখলের অভিযোগও তোলেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে আকিজ টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. জাকিরের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি মিটিংয়ে রয়েছেন; পরে এ বিষয়ে কথা বলবেন।
পরিবেশ অধিদপ্তর মানিকগঞ্জের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, কারখানার বর্জ্য ধলেশ্বরী নদীতে যাওয়ার বিষয়টি তাঁদের জানা আছে। “মূল সমস্যা কালার প্যারামিটারে। নির্ধারিত মানের বাইরে থাকায় কারখানাটিকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং দ্রুত মান ঠিক করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে,” বলেন তিনি।
স্থানীয়দের দাবি, জরিমানা নয়—স্থায়ী সমাধান ছাড়া পরিবেশ ও জীবিকা রক্ষা সম্ভব না।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST