সুনামগঞ্জের মধ্যনগর ও তাহিরপুর উপজেলাজুড়ে বিস্তৃত টাঙ্গুয়ার হাওর এখন দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভ্রমণপিপাসুরা ছুটে আসছেন। পর্যটকদের কেনাকাটার প্রধান গন্তব্য হওয়ায় মধ্যনগর বাজারে মানুষের আনাগোনাও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
তবে পর্যটন বাড়ার পাশাপাশি হাউসবোটের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং পরিবেশবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে কঠোর অবস্থানে গেছে প্রশাসন। পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে বৃহত্তর টাঙ্গুয়ার হাওর ও সংলগ্ন পর্যটন এলাকাজুড়ে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পর্যটকদের পরিবেশগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগামী ১০ আগস্টের মধ্যে সব হাউসবোটকে নিবন্ধনের আওতায় আনতে হবে। এজন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আবেদন জমা দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করতে ব্যর্থ হলে কোনো হাউসবোটকে পর্যটক নিয়ে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না।
জেলা প্রশাসনের ১১ দফা নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, সংরক্ষিত ইসিএ এলাকায় ইঞ্জিনচালিত হাউসবোট ও নৌযানের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। হাওরে ভ্রমণের সময় উচ্চস্বরে গান, মাইক বা সাউন্ড বক্স বাজানো যাবে না। হাউসবোটে কোনো ধরনের প্লাস্টিক পণ্য বহন করা যাবে না। পানীয় জলের জন্য নিরাপদ ফিল্টার ব্যবহার করতে হবে। কোনোভাবেই মানব বর্জ্য হাওরের পানিতে ফেলা যাবে না। প্রতিটি নৌযানে পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট ও লাইফবয়া রাখতে হবে। একইসঙ্গে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র রাখা এবং গ্যাস সিলিন্ডারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।
প্রায় ১২ হাজার ৬৫ হেক্টর এলাকাজুড়ে বিস্তৃত টাঙ্গুয়ার হাওর। ২০০ সালের ১০ জুলাই এটি আন্তর্জাতিক রামসার সাইটের স্বীকৃতি পায়। মিঠাপানির মাছ, জলজ উদ্ভিদ এবং দেশি-বিদেশি অতিথি পাখির নিরাপদ আবাসস্থল হিসেবে এর গুরুত্ব অনেক। তবে নিয়ন্ত্রণহীন পর্যটন ও হাউসবোটের কারণে বর্তমানে হাওরের পরিবেশ হুমকির মুখে পড়েছে।
একপাশে মেঘালয়ের পাহাড়, অন্যপাশে হাওরের বুকে হিজল-করচের সারি। স্বচ্ছ জলরাশি আর মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখতে প্রতিবছর হাজারো পর্যটক আসেন টাঙ্গুয়ার হাওরে। টেকেরঘাট, শিমুল বাগান, বারিক্কা টিলা, যাদুকাটা নদী, নীলাদ্রি লেক এবং মধ্যনগরের আকর্ষণীয় ব্রিজ এখন পর্যটকদের বাড়তি আকর্ষণ।
কিন্তু পর্যটকদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা এখনও পর্যাপ্ত নয়। মধ্যনগরে পাবলিক টয়লেট, বিশুদ্ধ পানি, বিশ্রামাগার ও পার্কিংয়ের ব্যবস্থা জরুরি। স্থানীয়দের মতে, ৫-৬ বছর আগে এখানে হাউসবোটের সংখ্যা ছিল একশোর কিছু বেশি। বর্তমানে তা বেড়ে ৫০ থেকে ৬০ ছাড়িয়েছে। এর ফলে বাড়ছে শব্দদূষণ, প্লাস্টিক বর্জ্য ও মানব বর্জ্য। এতে হাওরের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
পর্যটকদের নিরাপত্তা ও পরিবেশগত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক নজরদারি আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST