ত্যাগ আর মানবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রেখে পবিত্র ঈদুল আযহা উদযাপন করলো সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার মাঝের ছড়া বাঙ্গালভিটা গ্রাম। মাদ্রাসাতুল ইনসাফ আদ-দ্বীনিয়ার উদ্যোগে ১০টি গরু কুরবানি দিয়ে ৫০০ হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে ২ কেজি করে গোশত বিতরণ করা হয়েছে।
কুরবানি শব্দের অর্থই হলো ত্যাগ। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজের প্রিয় বস্তুকে উৎসর্গ করার এই শিক্ষাই ঈদুল আযহার মূল বার্তা। সেই শিক্ষাকে বাস্তবে রূপ দিতেই ২০২০ সালের ২১ জুলাই প্রতিষ্ঠার পর থেকে মাদ্রাসাতুল ইনসাফ আদ-দ্বীনিয়া প্রতি বছর ঈদুল আযহায় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে আসছে।
এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। সুষ্ঠু বিতরণের জন্য আগে থেকেই গ্রামের সবচেয়ে অসহায় ৫০০ পরিবারের তালিকা তৈরি করা হয়েছিল। সকাল থেকে শুরু হওয়া বিতরণ কার্যক্রমে স্বেচ্ছাসেবকরা অসহায় দরিদ্রদের মাঝে ২ কেজি করে গোশত দেন। এতে গ্রামের বৃদ্ধ, বিধবা ও দিনমজুর পরিবারগুলোর মুখে ফুটে ওঠে তৃপ্তির হাসি।
মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ জুগ্লুনুর আশিক বলেন, “আমাদের একটাই উদ্দেশ্য—ঈদের আনন্দ যেন সমাজের সবচেয়ে অবহেলিত মানুষটিও ভাগ করে নিতে পারে। আল্লাহর রহমতে ২০২০ সাল থেকে আমরা এই কাজ ধারাবাহিকভাবে করে যাচ্ছি। ত্যাগের এই দিনে কেউ যেন অভুক্ত না থাকে, এটাই আমাদের চেষ্টা।”
এই মানবিক আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতা করেছেন বিশিষ্ট সমাজসেবক ডা. মো. রমজান আলী চৌধুরী। তিনি বলেন, “এই এলাকার অনেক পরিবার সারা বছর মাংসের স্বাদ পায় না। ঈদের দিন অন্তত তারা যেন পেট ভরে খেতে পারে, সেজন্যই আমরা এগিয়ে এসেছি। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ, কমিটির সদস্য ও স্থানীয় মানুষের আন্তরিক সহযোগিতা ছাড়া ৫০০ পরিবারের জন্য এত বড় আয়োজন সম্ভব হতো না।”
জানা গেছে, বর্তমানে মাদ্রাসা কমিটিতে ১২ থেকে ১৩শ’ সদস্য রয়েছেন। তাঁদের মাসিক চাঁদা, অনুদান ও স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমেই প্রতিবছর এই মানবিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি সমাজসেবাকেও মাদ্রাসাটি সমান গুরুত্ব দিয়ে আসছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রউব বলেন, “এই মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার পর থেকে আমাদের গ্রামের গরিব মানুষের অনেক উপকার হয়েছে। আগে ঈদের সময় অনেকেই মাংস খেতে পারতো না। এখন তাঁরা নিজেরা এসে বাড়িতে গোশত দিয়ে যান। এটা আমাদের জন্য সত্যিই আল্লাহর রহমত।”
গোশত পেয়ে আবেগাপ্লুত রওশনা আক্তার বলেন, “আমার স্বামী নেই, ছেলেমেয়ে নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটে। কুরবানির গোশত কেনার সামর্থ্য আমার নেই। আজ মাদ্রাসা থেকে ২ কেজি গোশত পেয়ে বাচ্চাগুলো খুব খুশি। আল্লাহ যেন তাঁদের এই দান কবুল করেন।”
আয়োজকরা জানিয়েছেন, মানুষের ভালোবাসা ও সহযোগিতা পেলে আগামী বছরগুলোতেও এই মানবিক ধারা অব্যাহত রাখবেন তাঁরা। ত্যাগের মহিমায় উজ্জ্বল হয়ে উঠুক সমাজের প্রতিটি প্রান্ত—এমন প্রত্যাশাই ব্যক্ত করেছেন স্থানীয়রা।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST