রাঙ্গামাটির লংগদুতে বাগাচতর ইউনিয়নের মহাজনপাড়া মাদ্রাসার চারজন দাখিল পরীক্ষার্থীকে বেধড়ক মারধর করে গুরুতর আহত করে স্থানীয় মটর সাইকেল চালক সাগর ও তার স্বজন। সাগর বগাচতর ইউনিয়নের জালিয়াপাড়া এলাকার ওলাকতের ছেলে।
ঘটনাটি ঘটে গত ১০ মে রবিবার। গত দুদিন বিষয়টি কোনরকম জানাজানি না হওয়া এবং কেউ কেউ ইচ্ছা করে চুপ করে থেকে বিষয়টি শেষ করতে চাইলেও, গাড়িয়ানরা বিষয়টি জানান দেয়।
মাদ্রাসার ছাত্র পরীক্ষার্থী সাকিবুল হাছান (১৭), রিফাত ( ১৬), ইয়াছিন (১৭)
রাকিবুল ইসলাম(১৭) তারা জানায়, লংগদু সরকারী উচ্চবিদ্যালয়ে প্রতিদিনের ন্যায় পরীক্ষা শেষ করে, লংগদু ঘাট থেকে নৌকা পার হয়ে মটর সাইকেল স্টেশনে পৌঁছে তারা। মাদ্রসার ছেলে এবং মেয়ে স্টেশনে গাড়ি না পেয়ে একই সাথে হাটতে থাকে। ছেলেরা সামনে আর মেয়ে শিক্ষার্থীরা একটু পেছনে পেছনে। ঠিক তখনি সাগর নামের ড্রাইভার আসে। ছেলে শিক্ষার্থীরা ড্রাইভারকে তাদের নিয়ে যেতে বল্লে তিনি বলেন আমার ফোনের ভাড়া আছে। এটা বলে পেছনে এসে মেয়েদেরকে ডাকতে থাকে যাবে কিনা। মেয়ে শিক্ষার্থী দুজন যাওয়ার জন্য তার গাড়িতে উঠে। যখন ছেলেদের অতিক্রম করে গাড়ি যাচ্ছিলো, তখন তারা মেয়েদের কৃষি শিক্ষার খাতা গুলো দিয়ে যেতে বলে মর্মে গাড়ি থামাতে বলে আর ড্রাইভারও গাড়ি থামায়। তখন পাশ থেকে একজন পরীক্ষার্থী ড্রাইভারকে বলে ভাই আমরা যেতে চাইলাম নিলেন না ওদের নিলেন। এতে ড্রাইভার মাথা গরম করে পরীক্ষার্থীর ওপর রাগান্বিত হয়ে ধাক্কা মেরে নিচে ফেলে দেয় প্রশ্নকারী শিক্ষার্থীকে। পাশে থাকা বন্ধুরা প্রতিবাদ করলে তাদেরও ধাক্কা মারে এবং ড্রাইভার তার বাবা এবং স্বজনদের ফোন করে ঘটনাস্থলে নিয়ে আসে। স্বজনরা এসে চার শিক্ষার্থীকে রাস্তা থেকে নিচে নিয়ে গিয়ে ৮জন মিলে বেধড় মারধর করে তাদের ফেলে চলে যায়।
প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে ১২ মে তারা শরীরে জখম, ব্যাথা ও জ্বর নিয়ে পরীক্ষার হলে পরীক্ষা দিতে বসেন। এরপর আবারো আজ পরীক্ষা শেষে তারা লংগদু সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
কারা উপস্থিত থেকে মারধর করেছে বলে জানতে চাইলে পরীক্ষার্থীরা জানায়,সাগর (ড্রাইভার), সগরের বাবা ওলাকত,হাসান,সাইমুন,তারা মিয়া, সুরুজ মিয়া, রাজন,আবুল কালাম এছাড়াও আরো অনেকেই ছিলো পাশে।
এবিষয়ে দ্রুত বিচার চায় পরীক্ষার্থীদের গাড়িয়নরা। এবং পরীক্ষা কেন্দ্রে আসা যাওয়ার নিরাপত্তা ও মেয়ে শিক্ষার্থীদের পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তার দাবী জানান তারা। এবিষয়ে গাড়িয়ানদের পক্ষ হতে অভিভাবক শাহ আলম বাদী হয়ে লংগদু থানায় ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর অভিযোগ দায়ের করেন।
এদিকে অভিযুক্ত সাগর বলেন, তাদেরকে গাড়িতে না নিয়ে আসিনি এটা সত্য। যখন আমি মেয়ে দুইজনকে নিয়ে যাত্রা শুরু করি, একটু সামনে গেরে তারা আমাদের দাঁড় করিয়ে মেয়েদেরকে নামতে বলে। মেয়েরা নামতে চায়নি,ছেলে গুলো মেয়দেরকে বলতেছে এখানে জামেলা হবে তাড়াতাড়ি নামো। পরে মেয়েরা নিচে নামে, আমিও নামি। তারা চারজন আমাকে বারবার মারার চেষ্টা করছে, পরে আমি একজনকে ধাক্কা দেই। ওখান থেকে উঠে এসে তারা আমাকে মারতে মারতে রাস্তা থেকে নিচে নিয়ে যায়। আমিও নিজে রক্ষার জন্য তাদের উপর আক্রমণ করি। আপনি দশ বারো জন মিলে মারধর করছেন ছাত্রদের? এমন প্রশ্নে সাগর বলেন এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ। ঘটনাস্থলে তাদের হুজুরও উপস্থিত ছিলেন।
মাদ্রাসার সুপার মাওলানা হাফেজ মাওলানা শাহজান জানান, আমার মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের ওপর এধরণের অত্যাচার ও নির্যাতনের বিচারের দাবী জানাচ্ছি। দ্রুত সময়ে তাদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক।
লংগদু থানার অফিসার ইনচার্জ জাকারিয়া জানান, বিষয়টি সম্পর্কে আমরা ইতিমধ্যে অবগত হয়েছি, গাড়িয়ানদের দেওয়া অভিযোগ হলেই আমরা দ্রুত সময়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহাঙ্গীর হোসাইন জানান, বিষয়টি সম্পর্কে গাড়িয়ানরা আজকেই আমাকে জানিয়েছেন। আমরা দ্রুত সময়ে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST