নদীভাঙনের দীর্ঘদিনের আতঙ্ক কাটিয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে শুরু করেছিলেন মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার পদ্মাপাড়ের বাসিন্দারা। কিন্তু প্রায় ৫২৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত নদী তীর রক্ষা বাঁধের একটি অংশে ধস দেখা দেওয়ায় সেই স্বস্তি আবারও দুশ্চিন্তায় পরিণত হয়েছে। পদ্মার প্রবল স্রোতে বাঁধের সিসি ব্লক একের পর এক নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় নতুন করে ভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
রোববার বিকেলে উপজেলার গাঁওদিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে গাঁওদিয়া বাজারের পশ্চিম পাশে নদী তীর রক্ষা বাঁধে হঠাৎ ধসের ঘটনা ঘটে। খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার অনেক পরিবার নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে ঘরের মালামাল সরিয়ে নিতে শুরু করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আলিয়া বেগম বলেন, এই পদ্মা নদীতে আমার বাপের ভিটা হারিয়েছি। এখন স্বামীর ভিটাটাও হারানোর ভয় নিয়ে দিন কাটছে। সবসময় আতঙ্কে থাকি, কখন যে নদীর বুকে সবকিছু চলে যায়। আল্লাহ যেন আমাদের এই নদীভাঙন থেকে রক্ষা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মী কাজী বাবুল জানান, কোনো ধরনের পূর্ব সংকেত ছাড়াই পদ্মার তীব্র স্রোতে বাঁধের সিসি ব্লকগুলো একের পর এক সরে গিয়ে নদীতে তলিয়ে যেতে শুরু করে। অল্প সময়ের মধ্যেই ধসের পরিধি বাড়তে থাকায় এলাকাজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত তীররক্ষা প্রকল্প চালুর মাত্র দেড় মাসের মধ্যেই ধস দেখা দেওয়ায় নির্মাণকাজের গুণগত মান ও প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দ্রুত জরুরি ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত এবং পুরো বাঁধের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে বর্ষার তীব্র স্রোতে ধস আরও বিস্তৃত হতে পারে। এতে বসতভিটা, কৃষিজমি, স্থানীয় বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
স্থানীয়রা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে নতুন করে নদীভাঙনের ভয়াবহতা থেকে পদ্মাপাড়ের মানুষকে রক্ষা করা যায়।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST