সরকারি চাকরিবিধি ও নৈতিকতার তোয়াক্কা না করে পিরোজপুরের নেছারাবাদে নার্সারি ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে কাউখালী উপজেলা উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তার সৈয়দ ফাহিম ( ৩৮) নামে এক বিরুদ্ধে। সরকারি ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে চারা গাছ ক্রয় বিক্রয়ে অনিয়ম করে কামিয়েছেন অঢেল সম্পদ —এমনই তথ্য উঠে এসেছে মাঠ পর্যায়ের অনুসন্ধানে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, নেছারাবাদ উপজেলার অলংকারকাঠি গ্রামের বাসিন্দা শেখ মো. কামালের নিকট ২২ শতাংশ জমি ভাড়ায় নিয়ে দু’বছর পূর্বে ” এগ্রো কুইন নার্সারি ” নামে একটি নার্সারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠা করেন উক্ত উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা। সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে নিজেকে ব্যবসায়ে জড়িত বা সম্পৃক্ত থাকার বিষয়টি গোপন রাখার জন্যে তার স্ত্রী মোসাম্মাৎ ময়না আক্তারকে (২৫) উক্ত নার্সারির সত্ত্বাধিকারী করে সাইনবোর্ড লাগিয়ে গোপনে নিজেই ঐ নার্সারির সমস্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঐ ব্যবসায়ীর প্রজেক্ট তার শশুর নিয়ন্ত্রণ করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক নার্সারি ব্যবসায়ী বলেন, “কৃষি কর্মকর্তা নিজেই যখন আড়ালে থেকে ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করেন, তখন আমাদের মতো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। সরকারি টেন্ডারের চারাও সরবরাহ করার ক্ষেত্রে তার নার্সারি অগ্রাধিকার পায়।
স্থানীয় আদর্শ নার্সারির সত্ত্বাধিকারী আব্দুস সালাম বলেন, ফাহিম নামের এক সরকারি কৃষি অফিসার এগ্রো কুইন নামে এই নার্সারি করেছেন। কর্মকর্তা না হলে এত্তো বড়ো একটা প্রজেক্ট করে কিভাবে? তিনি অভিযোগ করেন বলেন, স্থানীয় কৃষি (নেছারাবাদ) অফিসের কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশে একটু ভিতরে নার্সারি করে সরকারি টেন্ডারের চারা গাছ তারাই দিয়ে থাকেন। আমরা সাধারণ ব্যবসায়িরা সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত। কৃষি কর্মকর্তাদের এহেন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের হস্তক্ষেপও কামনা করেন তিনি।
এ ব্যপারে জায়গার মালিক কালাম এ প্রতিবেদককে জানাই, আমার কাছ থেকে জমি ভাড়া নিয়ে এ নার্সারি ব্যবসা করেন কৃষি অফিসার মো ফাহিম। তবে তিনি চাকরি করেন বিধায় এটা পরিচালনা করেন তার শশুর আক্তার হোসেন। কোন লিখিত চুক্তিপত্র আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার সাথে লিখিত চুক্তি করার কথা হলেও তা শেষমেশ করা হয়নি।
এ বিষয়ে তার শশুর মো. আতাহার হোসেন বলেন, এগ্রো কুইন নার্সারি’র মালিক আমি ও আমার মেয়ে ময়না বেগম। আমি এটা দেখাশোনা করি। মেয়ের অন্যকোন পেশা বা আয়ের উৎস নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন আমার মেয়ে গৃহিণী, ওর জামাই ( স্বামী) ফাহিম কৃষি অফিসে চাকরি করে।
সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর ১৭ অনুচ্ছেদে স্পষ্ট বলা হয়েছে, কোনো সরকারি কর্মচারী সরকারের পূর্বানুমোদন ছাড়া কোনো ব্যবসা বা অন্য কোনো লাভজনক কাজে জড়িত হতে পারবেন না। তাছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নির্দেশনা অনুযায়ী, সরকারি কর্মকর্তা তো বটেই, এমনকি তাদের ওপর নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যরাও অনুমোদন ছাড়া ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করলে তা চাকরি বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে।
এ প্রসঙ্গে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জানান, “সরকারি কোনো কর্মকর্তার ব্যক্তিগত ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ার সুযোগ নেই। কৃষি বিভাগের কাজ কৃষকের সেবা করা, ব্যবসা করা নয়। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এই বিষয়ে অভিযুক্ত কৃষি কর্মকর্তার সাথে মুঠোফোন যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যবসার সাথে সরাসরি যুক্ত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেন। তবে তার আত্মীয়দের নামে লাইসেন্স থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো জবাব দেননি।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST