পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ উপজেলার ৯নং সুটিয়াকাঠী ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) মৃনাল চন্দ্র হালদারের বিরুদ্ধে সীমাহীন দুর্নীতি-অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে ইউনিয়ন পরিষদের সামনে সাংবাদিকদের কাছে এই অভিযোগ করেন স্থানীয় ভুক্তভোগী জনগণ ও পরিষদের সদস্যবৃন্দ।
তাদের অভিযোগ পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মৃনাল চন্দ্র হালদার বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম-দুর্নীতি ও অনৈতিক কর্মকান্ড করে পরিষদের লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। বরিশাল শহরে ৫ তলা পাকা বিল্ডিং, উপজেলার কৌড়িখারা এলাকায় পাকা বাড়িসহ তার গ্রামের বাড়িতে গড়েছেন সম্পদের পাহাড় গড়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায়, উপজেলার ৯নং সুটিয়াকাঠী ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মৃনাল চন্দ্র হালদার চাকুরির শুরু থেকে গত দেড় যুগ ধরে সরকারি কোন আইনকে তোয়াক্কা না করে নিজের ইচ্ছামত অফিস করাসহ সকল অনিয়ম ও অপকর্ম করে আসছেন । সুটিয়াকাঠী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মারা যাওয়া গত দু’বছর ধরে তিনি নিজের খেয়াল খুশি মতো কাজ করার কারনে হয়রানী ও সেবা বঞ্চিত হয়ে পরিষদের প্রতি না বিশ্বাস উঠেছে সাধারণ জনগণের।
৯নং সুটিয়াকাঠী ইউনিয়নের পাশাপাশি ২নং সোহাগদাল ইউনিয়নের (সচিব না থাকায়) দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ইন্দেরহাট ও মিয়ারহাট বন্ধুর দুটি এই দুই ইউনিয়ন পরিষদের আওতায় থাকায় নিজস্ব আয় ট্যাক্স আদায়, ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু, ওয়ারিশ সনদ ইস্যু, গ্রাম্য আদালতের মামলার ফিসের আয় থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ২নং সোহাগদল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের হাওয়ায় তাদের অনুপস্থিতির কারণে প্যানেল চেয়ারম্যান থাকার কারনে ইউনিয়ন পরিষদের সকল সরকারি বরাদ্দ অনভিজ্ঞ পেনেল চেয়ারম্যানদের কাজে লাগিয়ে অনেক ক্ষেত্রে তথ্য গোপন রেখে সে একক সিদ্ধান্ত নিয়ে কার্যক্রম চালিয়ে এ অর্থ হাতিয়ে নেয়। গত কয়েক মাসে ভিজিডি চাল বিতরণে প্রতিটি কার্ডধারীর কাছ থেকে ৫’শ করে টাকা এবং প্রত্যেকের মাথাপিছু থেকে ২ কেজি করে চাল কমে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
ভিডাব্লিউবি, মৎস্য ভিজিএফ, ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহার ভিজিএফ এর চাল, জিআর চালের তালিকা প্রস্তুত, উত্তোলন ও বিতরণ ইউনিয়ন পরিষদের কোন সদস্যদের অবগত করেন না। তাছাড়া বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, মা ও শিশু সহায়তা ভাতা এবং ভিডাব্লিউবি, টিসিবির কার্ড দেয়ার কথা বলে একাধিক ভোক্তাদের কাছ থেকেও লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। প্রতিটি জন্ম নিবন্ধনে ৪শ’ থেকে ৫শ’ টাকা আদায় করে দুই বছর সচিব কোন খাতে ব্যয় না করে আত্মসাৎ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
মজার বিষয় হলো ফ্যাসিবাদের দোসর এই প্রশাসনিক কর্মচারী ইউপি সদস্যদের মাঝে গ্রুপিং সৃষ্টি করে নিজের প্রভাব বিস্তার করে এমন দূর্নীতি ও অনৈতিক করে চলছেন। এমনকি ইউপি সদস্যদের সাথে খারাপ ব্যবহারে দুরুত্ব তৈরি হওয়ার কারণে স্বাচ্ছন্দ্যে ইউনিয়ন পরিষদের কাজ করতে পারছে না ইউপি সদস্যরা। এতে করে জনসাধারণকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। এক কথায় ৯ নং সুটিয়াকাঠী ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের কাছে টাকা ছাড়া মিলছে না কোন সেবা। ইউপি সদস্য ও এলাকাবাসী মহাদুর্নীতিবাজ সচিব মৃনাল চন্দ্র হালদারকে তদন্তের আমার দাবি জানান। তারা প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছেন।
এত সব অভিযোগের ব্যাপারে জানতে ইউপি সচিব মৃনাল চন্দ্র হালদারের ফোনে একাধিক বার কল করা হলে তার বন্ধু পাওয়া যায়।
৯নং সুটিয়াকাঠী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত প্যানেল চেয়ারম্যান -২ তোতা খান বলেন, সচিবের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়টি আমার জানা নেই। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, সচিব নিয়মিত অফিস করেন তবে আজ নতুন একটি রাস্তার কাজ দেখতে গিয়েছেন। কিন্তু অনেকেই দেখেছেন সাংবাদিকরা যখন বাহিরে ভুক্তভোগীদের বক্তব্য নিচ্ছিলেন তখন তিনি পিছন দিক থেকে শর্ত পড়েছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, এরকম কোন অভিযোগ আগে পাইনি। এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়গুলো তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST