মাগুড়া জেলার চাঞ্চল্যকর ও আলোচিত ‘মানিক লাল ডোম’ হত্যা মামলার দীর্ঘ ৫ বছর ধরে পলাতক অন্যতম প্রধান আসামি লিটন (৪৮)-কে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৪। গত ১৫ জুলাই ২০২৬ তারিখ রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৪ এর একটি আভিযানিক দল ঢাকা মেট্রোপলিটনের শাহআলী থানাধীন শাহ-আলী মাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।হত্যাকাণ্ডের বিবরণ :মামলার বিবরণী ও আসামিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ভিকটিম মানিক লাল ডোম মাগুড়া সদর থানাধীন হাসপাতালপাড়ার (ডোমপাড়া) বাসিন্দা ছিলেন। ২০২১ সালের ২৯ জুন রাতে ভিকটিম তার ৯ বছর বয়সী ছেলে সানবাবুকে নিয়ে নিজ শয়নকক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন ৩০ জুন ভোরে শিশু সানবাবু ঘুম থেকে জেগে তার বাবাকে ঘরের মেঝেতে গলাকাটা ও রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে।
পরবর্তীতে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মর্গে প্রেরণ করে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ভিকটিমের স্ত্রী বাদী হয়ে মাগুড়া সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পরপরই বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ছায়া তদন্ত শুরু হয়।
এর আগে এই মামলার অন্যতম আসামি মেহেদী হাসান আকাশ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। জবানবন্দিতে সে জানায় যে, গাঁজা বিক্রির টাকার ভাগাভাগি নিয়ে ভিকটিম মানিক লালের সাথে ঝন্টু, লিটন সাইজিসহ অন্যদের বিরোধ তৈরি হয়। এরই জের ধরে ২০২১ সালের ৩০ জুন রাতে আসামিরা ঘুমন্ত মানিক লালের ঘরে প্রবেশ করে ধারালো দা দিয়ে গলা কেটে তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করে পালিয়ে যায়।পলাতক জীবন ও আইনগত ব্যবস্থা :হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই আসামি লিটন নিজেকে আড়াল করতে দেশের বিভিন্ন মাজার কেন্দ্রিক ‘শিকল সাইজি’ ছদ্মনাম ধারণ করে আত্মগোপনে ছিল। দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় অবশেষে র্যাব-৪ তাকে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST