মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিমুলিয়া ঘাটে অতিরিক্ত টোল আদায়কে কেন্দ্র করে ইজারাদারের লোকজনের হামলায় ৪ পর্যটক আহত হয়েছেন।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) পার্কিং ইয়ার্ডের পাশাপাশি ঘাটের সংযোগ সড়কে নতুন করে টোল বসানো এবং অনিয়ন্ত্রিতভাবে টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে পর্যটকদের সাথে এ অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। পরে ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, জুলাই মাস থেকে বিআইডব্লিউটিএ নিয়মিত পার্কিং ইয়ার্ড টোলের বাইরেও শিমুলিয়া ঘাট থেকে মাওয়া-লৌহজং প্রধান সড়ক পর্যন্ত মাত্র আধা কিলোমিটার রাস্তার জন্য বিআইডব্লিউটিএ নতুন করে আরেকটি টোল ইজারা দেয়।
অভিযোগ উঠেছে, ইজারাদারের লোকজন নির্ধারিত হারের তোয়াক্কা না করে নিজেদের ইচ্ছেমতো পর্যটক ও স্থানীয় যানবাহন থেকে মোটা অঙ্কের টোল আদায় করছে।
মাত্র ৫০০ মিটারের ব্যবধানে দুটি ভিন্ন স্থানে ডাবল টোল দিতে বাধ্য হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষোভ জমছিল ঘুরতে আসা পর্যটক ও স্থানীয় অধিবাসীদের মনে। এ নিয়ে প্রাশয়ই ইজারাদারের লোকজনের সঙ্গে সাধারণ মানুষের বাগবিতণ্ডা ও ঝামেলার সৃষ্টি হচ্ছিল।
সর্বশেষ বৃহস্পতিবার রাতের এ ঘটনায়, টোল আদায়কারীদের অন্যায্য দাবির প্রতিবাদ জানালে পর্যটকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় ইজারাদারের বলয়। এতে চারজন পর্যটক আহত হন।
ঢাকা থেকে ঘুরতে আসা আদিলুর রহমান নামে একজন পর্যটক জানান, মাত্র আধা কিলোমিটার রাস্তার জন্য আলাদা করে আবার টোল দেওয়া পুরোপুরি অযৌক্তিক। টোল আদায়ের নামে মূলত পর্যটকদের হয়রানি ও চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। এতে পর্যটকরা শিমুলিয়া ঘাট বিমুখ হবে। দ্রুত এই ইজারা বাতিল না করলে শিমুলিয়া ঘাটে পর্যটক আসা একদম বন্ধ হয়ে যাবে।
ঘাটের একজন হোটেল ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, রাস্তা ব্যবহারের জন্য যেদিন থেকে এখানে অতিরিক্ত টোল আদায় শুরু হয়েছে এর পর থেকেই এখানে পর্যটক আসা কমতে শুরু করেছে। আমাদের ব্যবসায় অনেকটা ধস নেমেছে। এই ঘটটিকে ধ্বংস করতে একটি কুচক্রি মহল এ টোল ব্যবস্থা শুরু করেছে। বিআইডব্লিউটিএ সরকারের একটি সংস্থা। তাদের উচিৎ জনগণের সেবা প্রদান করা। কিন্তু তারা সেবার নামে ব্যবসা শুরু করেছে। আর এ কাজে মদদ দিচ্ছে শিমুলিয়া ঘাটের বন্দর কর্মকর্তা শাহ নেওয়াজ।
তিনি স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সাথে যোগসাজশ করে শিমুলিয়া ঘাটে বিআইডব্লিউটিএকে দিয়ে এ টোল ব্যবস্থা শুরু করেন। তার বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ রয়েছে। ইতোপূর্বে তিনি বিআইডব্লিউটিএর জায়গা দাবি করে স্থানীয় জামির মালিক ও স্কুলপড়ুয়াদের ওপর হামলা চালায়, যা নিয়ে স্থানীয়রা ব্যাপক ক্ষুব্ধ।
পত্রপত্রিকা ও উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় তার বিরুদ্ধে ব্যাপক আলোচনা হলেও অদৃশ্য শক্তির বলে তিনি দীর্ঘ দিন ধরে এখানে বহাল তবিয়তে আছেন। তাকে এখান থেকে কর্তৃপক্ষের প্রত্যাহার করা উচিত বলে মনে করেন স্থানীয় ওই হোটেল মালিক।
এ ব্যাপারে শিমুলিয়া ঘাটের বন্দর কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত নন। তাছাড়া টোলের রেট সম্পর্কেও তিনি জানেন না।
লৌহজং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. বোরহান উদ্দিন জানান, ৯৯৯-এ কল পেয়ে এসআই আজাদকে ঘটনাস্থলে পাঠাই। সেখানে আহত পর্যটকদের প্রথমে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে থানায় অভিযোগ দায়েরের পরামর্শ দেন এসআই। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ববি মিতু বলেন, এ বছরই নতুন রাস্তা ব্যবহারের জন্য টোল ধার্য্য করে ইজারা দেয় বিআইডব্লিউটিএ। তবে এটি নিয়ে মানুষের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। খুব কাছাকাছি দুটি টোল জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। আমরা এ টোলটি বাতিলের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলছি। এমপি আব্দুস সালাম আজাদ স্যার ও আমাদের জেলা প্রশাসক মহোদয় এ নিয়ে কাজা করছেন, যাতে এখানে দুটি টোল না করে পূর্বের মতো একটি টোলই থাকে। আশা করছি দ্রুতই আমরা এর সমাধান করতে পারব।
মুন্সীগঞ্জ-২ (লৌহজং-টঙ্গীবাড়ি) আসনের এমপি অ্যাড. আব্দুস সালাম আজাদ বলেন, সরকারের ভেতরে থেকে বিআইডব্লিউটিএর কিছু অসৎ কর্মকর্তা বিএনপি সরকারকে বিব্রত করতে এ টোল ব্যবস্থার আয়োজন করেছে। নয়তো মাত্র ৫০০ মিটার জায়গার মধ্যে দুটি টোল কীভাবে হয়। এটি কোনো হাইওয়ে রাস্তা নয়, একটি ফিডার রাস্তা মাত্র। এখানে টোল বসানো মানে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সরকারকে বিব্রত করা। আমরা এই টোল পরিহারের জন্য কাজ করছি।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST