“যখনি দেখি আমি কৃষ্ণচূড়া ফুল, তখনই মনে পাই আনন্দের মশগুল। চোখ জুড়ানো সৌন্দর্য আর মন জুড়ানো মোহ, কৃষ্ণচূড়ার মৃদুগন্ধে শীতল হয় দেহ।”
কৃষ্ণচূড়ার আবীর নিয়ে প্রকৃতি সেজে উঠেছে এক বর্ণিল রূপে, দেখলেই মনে হয় কৃষ্ণচূড়ার রক্তিম রঙে প্রকৃতিতে আগুন জ্বলছে। বৈশাখ এলেই লালগালিচায় হেঁসে উঠে এই কৃষ্ণচূড়া ফুল। চোখ ধাঁধানো কৃষ্ণচূড়ার সৌন্দর্য যেন হার মানায় ঋতুরাজকেও। ঋতুচক্রের আবর্তনে কৃষ্ণচূড়া তার মোহনীয় সৌন্দর্য নিয়ে হাজির হয়েছে প্রকৃতির মাঝে। এই ফুলের উষ্ণ ছোয়ায় মুগ্ধতা ছড়াতে চায় হাজারো তরুণ-তরুণী। কেউ কেউ অবাক
দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে এই অপরুপ রুপে সাজানো ফুলগুলোর দিকে। এভাবেই আনন্দময় মুহূর্ত উপভোগ করে পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী বাহাদুর শাহ পার্কে ঘুরতে আসা হাজারো দর্শনার্থী।
পুরাণ ঢাকার লক্ষ্মীবাজারে অবস্থিত বাহাদুর শাহ পার্ক। যেখানে হয়ে থাকে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের আনাগোনা। শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের এক স্বস্তির যায়গা এই বাহাদুর শাহ পার্ক। এই পার্কটি যেন হাজার হাজার মানুষের মিলনমেলার একটি অন্যতম স্থান। পার্কটিকে ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে অনেক ইতিহাস আর ঐতিহ্য।
ঐতিহ্যবাহী এই পার্কটি লোহার রেলিং দিয়ে পুরোটা ঘেরা। পার্কটিতে প্রবেশের জন্য এর পূর্ব এবং পশ্চিম পাশে দুটো প্রধান ফটক রয়েছে। পার্কটির ভেতরে রেলিং এর পাশ দিয়ে পাকা রাস্তা করা হয়েছে। পার্কটি ঢাকার অন্যতম প্রধান নৌবন্দর সদরঘাট এলাকায় ঢুকতেই লক্ষ্মীবাজারের ঠিক মাথায় অবস্থিত। পার্কটি কে ঘিরে ৭টি রাস্তা একত্রিত হয়েছে। এর চারপাশে সরকারী গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসহ বেশ কিছু স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় থাকার কারণে এটি পুরাণ ঢাকার একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হিসেবে বিবেচিত। পার্কের উত্তর পাশে রয়েছে সেন্ট থমাস চার্চ, উত্তর পাশেই অবস্থিত ঢাকার প্রথম পানি সরবরাহ করার জন্য তৈরি ট্যাংক। উত্তর-পূর্ব কোনে আছে ঢাকার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী কলেজ কবি নজরুল সরকারী কলেজ এবং ইসলামিয়া হাই স্কুল, পূর্ব পাশে রয়েছে ঢাকার অন্যতম প্রাচীন বিদ্যালয় সরকারী মুসলিম স্কুল, দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে রয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। পার্কের ঠিক উত্তর পশ্চিম পাশেই রয়েছে ঢাকার জজ কোর্ট। এছাড়া বাংলা বাজার, ইসলামপুর, শাখারী বাজারের মত ঢাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু এলাকা। পার্কটিকে সৌন্দর্যে পরিপূর্ণ করেছে এর চারপাশে ঘিরে থাকা বিভিন্ন গাছগাছালী। তার মধ্যে অন্যতম গ্রীষ্মের কৃষ্ণচূড়া। গ্রীষ্মকালে কৃষ্ণচূড়া ফুলের প্রেমে মাতোয়ারা হয়ে ওঠে ইট পাথরের এই শহরের মাঝে বসবাসকারী প্রকৃতিপ্রেমি মানুষেরা।
গ্রীষ্মকালের বাহার কৃষ্ণচূড়া ফুল। সবুজ চিরল চিরল পাতার ফাঁকে লাল কৃষ্ণচূড়া ফুল, এক নজর দেখলেই যেন চোখ জুড়িয়ে যায়। মন নেচে ওঠে আনন্দে। কালবৈশাখীর কালো মেঘের মধ্যেও উঁকি দেয় লাল টুকটুকে কৃষ্ণচূড়া ফুল। কৃষ্ণচূড়া গাছের বৈজ্ঞানিক নাম ডেলো নিক্স রোজিয়া। এটি ফ্যাবেসি পরিবারের অন্তর্গত একটি গাছ, যা গুলমোহর নামেও পরিচিত।
কবি নজরুল সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সুজিত কুমার দাস বলেন, গাছের চিরল পাতার ফাকে লাল রক্তিম কৃষ্ণচূড়া ফুল দেখলে মনটা ভরে যায়, এ যেন বিধাতার এক অপরুপ সৃষ্টি। ইট পাথরের এই শহরের মাঝে তেমন কোনো গাছ নেই কিন্তু এই পার্কের চারপাশে ঘিরে থাকা বিভিন্ন গাছগাছালী প্রকৃতিকে মুগ্ধ করে। আর গ্রীষ্ম এলেই যেন এর সৌন্দর্য আরো দ্বিগুণ হয়ে ওঠে।
দর্শনার্থী মির্জা কাদের বলেন, গ্রীষ্মকাল যেন প্রকৃতি প্রেমিদের জন্য একটি বিশেষ ঋতু। এই সময় প্রকৃতি সেজে ওঠে এক নতুন সাজে। ক্লান্ত প্রহরে একটুখানি প্রশান্তির জন্য যখন এই পার্কের দিকে আসি, তখন কৃষ্ণচূড়া ফুলের দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকি। এক নিমিষেই যেন সকল গ্লানি দূর হয়ে যায়, মনটা ভরে যায় প্রকৃতির এমন মোহময়ী সাজে।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST