বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, সরকারের শুরুতেই ক্ষমতাসীন দল জনগণের রায়কে উপেক্ষা করে ১৮০ ডিগ্রি চোখ উল্টে দিয়েছে। তারা গণভোটের রায়কে অস্বীকার করেছে। পৃথিবীর আর কোন সরকার গণভোটের রায় কে অস্বীকার করেছে এমন কোন নজির নাই। আর এ কারণেই দেশে এমন সংকট দেখা দিয়েছে। নির্বাচনে তারা গণভোটে হ্যাঁ তে ভোট দিতে বলেছে। হ্যাঁ তে ভোট দেওয়ার অর্থই হলো গণভোটের চারটি প্রশ্নে যেখানে কোন নোট অফ ডিসেন্ট নাই ওই সকল ৮৪ টি সংস্কার দ্বারা মেনে নিয়েছে। এখন তারা এটাকে বেআইনি বলছে।
শনিবার (২৩ মে) দুপুরে শহরের পুরাতন বাস স্ট্যান্ড এলাকার পিরোজপুর কনভেনশন সেন্টারে জামায়াতে ইসলামী পিরোজপুর জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বিএনপি সরকারের উদ্দেশ্যে আরও বলেন, সমস্যা আপনারা তৈরি করেছেন সমাধান আপনাদেরই করতে হবে। আমাদেরকে সব সময় আপনারা দায়িত্বের প্রতি, আন্দোলনের প্রতি গঠনমুলক পাবেন। জামায়াত ইসলামের কর্মী, রুকনদের দায়িত্ব হচ্ছে একদিকে জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটানো অন্যদিকে আমাদের আন্দোলনকে লক্ষ্যপানে পৌঁছে নেওয়া এবং সকল কর্মসূচি সফল করা।
জামায়াতে ইসলামী পিরোজপুরের জেলা আমীর অধ্যক্ষ তাফাজ্জল হোসাইন ফরিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরের সেক্রেটারি ও জাতীয় সংসদের সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, কেন্দ্রীয় মজলিসের সুরা সদস্য মাওলানা এ কে এম ফখরুদ্দিন খান রাযী প্রমুখ।
রুকন সম্মেলনে জেলা ও উপজেলার বিপুল সংখ্যক রুকন ও দায়িত্বশীল নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন।
মুয়াযযম হোসাইন হেলাল বলেছেন, জামায়াতে ইসলামীর কর্মী ও রুকনদের সামাজিক কাজে আরও বেশি সম্পৃক্ত হতে হবে। সমাজের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়েই একটি মানবিক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠন সম্ভব।
তিনি বলেন, “আপনার পাশে নতুন কোনো ভাড়াটিয়া এলে তার জন্য নাস্তার ব্যবস্থা করতে পারেন। আবার কেউ বাসা পরিবর্তন করে চলে গেলে তার যাত্রাপথের কথা চিন্তা করে কিছু খাবার দিয়ে বিদায় জানাতে পারেন। এটাও সামাজিক কাজের অংশ। প্রতিবেশী কেউ মারা গেলে জানাজা, দাফন-কাফনে অংশ নেওয়াও আমাদের দায়িত্ব।”
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে জামায়াতে ইসলামী সামাজিক কর্মকাণ্ডে অধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য দলের কর্মীদের মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কাজে আরও সক্রিয় হতে হবে।
এমপি ডা. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, “আমাদের হয়তো অভাব ও সীমাবদ্ধতা আছে। কিন্তু আল্লাহ তায়ালা আমাদের প্রতিপক্ষের অন্তরে এমন ভয় সৃষ্টি করে দিয়েছেন যে, তারা মনে করে একসময় বাংলাদেশ ব্যাংকও দেউলিয়া হয়ে যেতে পারে; কিন্তু জামায়াতে ইসলামী কখনো দেউলিয়া হবে না।”
তিনি বলেন, “মানুষ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য যে দান করে, তা আল্লাহর কাছে কবুল ও পছন্দনীয় হয়। আমাদের কাছে পাঁচ টাকা এলে আমরা মানুষের কল্যাণে পঁচিশ টাকা ব্যয় করার চেষ্টা করি। অথচ অন্যরা পঁচিশ টাকা পেলেও মানুষের জন্য পাঁচ পয়সা খরচ করতে চায় না, সব নিজেদের স্বার্থেই ব্যয় করে।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের সংগঠনের অর্থ সাধারণ মানুষের কাছ থেকে আসে এবং তা মানুষের কল্যাণে ব্যয় হয়। কিন্তু অন্যদের অর্থ ওপর থেকে এলেও তার সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায় না।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST