নেছারাবাদে নিখোঁজ হওয়ার ১২ ঘন্টা পরে পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে মিলল নির্মল চন্দ্র হালদার ওরফে নির্মল ওজা (৬৫) নামে এক ব্যক্তির লাশ। লাশটি উদ্ধার করেছে নেছারাবাদ থানা পুলিশ। জানাযায়, মঙ্গলবার (১৯) সকালে উপজেলার স্বরূপকাঠি সদর ইউনিয়নের পানাউল্লাহপুর গ্রামের ৪নং ওয়ার্ডের অবসর প্রাপ্ত শিক্ষক মোঃ শাহ আলমের পরিত্যক্ত ঘরের পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত নির্মল ওঝা উপজেলার আটঘর-কুড়িয়ানা ইউনিয়নের পশ্চিম কুড়িয়ানা গ্রামের বিপেন হালদারের ছেলে।
নিহতের সম্পর্কের ভাই ও প্রতিবেশী সমিরণ রায় জানান, প্রতিদিনের মতো সোমবার বিকেলে নির্মল স্থানীয় কুড়িয়ানা বাজারে যান। রাত ৮টার পর থেকে তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। মোবাইলে কল দিলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে ওই রাতেই থানায় জিডি করা হয়। সকালে জানতে পারেন পানাউল্লাহপুর গ্রামে তার লাশ পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, খুন হওয়া (ধারণা করা হচ্ছে) ব্যক্তি নির্মল ওজা হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন। মানুষের বিপদ-আপদে টাকা ধার দিতেন। তার গলায় স্বর্ণের দুটি লকেট ছিল এবং ঘটনার দিন তার সঙ্গে টাকাও ছিল।” সেগুলো পাওয়া যায় নাই,দুর্বৃত্তরা নিয়ে গেছে।
নির্মল হালদারের ভাগিনা দিলীপ হালদার জানান, সোমবার রাতে জানতে পারেন তার মামা নিখোঁজ হয়েছেন। পরে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পর তাকে না পেয়ে নির্মলের ছেলে বাদী হয়ে নেছারাবাদ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) আবেদন করেন। মঙ্গলবার ভোরে খবর আসে উপজেলার পানাউল্লাহপুর গ্রামে একটি বাড়ির পাশে তার লাশ পড়ে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, “মামার সঙ্গে কারও শত্রুতা ছিল বলে তার জানা নাই। তিনি গলায় স্বর্নের চেইনের সঙ্গে প্রায় দেড় ভরির দুটি স্বর্ণের লকেট পরতেন। এছাড়া সবসময় তার কাছে কিছু নগদ টাকাও থাকত।”
প্রতিবেশী অমল রায় জানান, “নির্মল আমাদের বিভিন্ন সময়ে আর্থিক সহায়তা করতো। এক সপ্তাহ আগেও তিনি আমাকে ৫০ হাজার টাকা ধার দিয়েছিলেন। সোমবার রাতে শুনি তিনি নিখোঁজ, আর সকালে শুনি তার লাশ পাওয়া গেছে।”
ঘটনাস্থল থেকে নেছারাবাদ থানার ওসি তদন্ত জানান, নিহতের গলায় কোনো স্বর্ণের লকেট পাওয়া যায়নি। এছাড়া তার কাছে মোবাইল ফোন বা টাকা ছিল না। তবে ধারণা করা হচ্ছে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যা। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত- ময়না তদন্তের জন্য লাশ জেলায় (মর্গে) পাঠানো হয়েছ, মামলা প্রক্রিয়াধীন।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST