সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাকাতলা গ্রামে বীর মুক্তিযোদ্ধা তমিজ উদ্দিন ইন্তেকাল করেছেন। শুক্রবার ভোর ৬টায় নিজ বাড়িতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। তিনি স্ত্রী, চার ছেলে, চার মেয়ে এবং অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা তমিজ উদ্দিনের মৃত্যুর খবরে বাকাতলাসহ গোটা ইউনিয়নে শোকের ছায়া নেমে আসে। স্থানীয়রা জানান, তিনি ছিলেন এলাকার প্রবীণ মুক্তিযোদ্ধা এবং সমাজসেবায় নিবেদিতপ্রাণ একজন ব্যক্তি।
মধ্যনগর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। গার্ড অব অনার শেষে উপজেলা প্রশাসন দাফনকার্য বাবদ আর্থিক সহায়তা মরহুমের সন্তানদের হাতে তুলে দেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা তমিজ উদ্দিন ওসিয়ত করে গিয়েছিলেন যেন তাঁকে তাঁর নিজ জমিতে দাফন করা হয়। সমাজবাসীর অনুমতি সাপেক্ষে তাঁর নিজ জমিতেই তাঁকে দাফন করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মধ্যনগর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্জয় ঘোষ। তাঁর সঙ্গে পুলিশের আরও ৭ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী এবং বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের নির্বাহী সদস্য শফিকুল ইসলাম শফিক।
বাকাতলা গ্রামের বাসিন্দা মো. রমজান ডাক্তার বলেন, “বীর মুক্তিযোদ্ধা তমিজ উদ্দিন ছিলেন আমাদের গ্রামের বটবৃক্ষ। বিপদে পড়লে সবার আগে তাঁর কাছে যেতাম। তাঁর অভাব কখনো পূরণ হবে না।”
স্থানীয়রা আরও বলেন,“তিনি সব সময় তরুণদের মুক্তিযুদ্ধের গল্প শোনাতেন। দেশপ্রেমের যে শিক্ষা তিনি দিয়ে গেছেন, তা আমাদের পাথেয় হয়ে থাকবে।”
বীর মুক্তিযোদ্ধা তমিজ উদ্দিনের ছোট ছেলে ইমরান হোসেন বলেন,
“আব্বা আমাদের পরিবারের শুধু অভিভাবক ছিলেন না, তিনি ছিলেন বাকাতলা গ্রামের গর্ব। দেশের স্বাধীনতার জন্য যিনি জীবন বাজি রেখেছিলেন, তাঁর ত্যাগের কথা যেন নতুন প্রজন্ম না ভোলে। উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। সকলের কাছে আব্বার আত্মার মাগফিরাতের জন্য দোয়া চাই।”
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST