সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে ২০০৪ সালে আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের জনসভায় বোমা হামলা ও হ/ত্যাচেষ্টা মামলার রায় ঘোষিত হয়েছে। তবে এই রায়কে ঘিরে দেশজুড়ে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ, নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। মামলার প্রধান আকর্ষণের জায়গা তৈরি হয়েছে আসামিদের সাজার বৈষম্য নিয়ে।
আদালতের রায় অনুযায়ী, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর এবং সংসদীয় হুইপ জি কে গউছসহ মোট ৯ জন হেভিওয়েট আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। কিন্তু একই মামলায় কোরআনে হাফেজ আজিজ নাঈম নামের এক ধর্মীয় শিক্ষককে মৃ/ত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। এই রায়কে ‘চরম অবিচার ও প্রহসন’ আখ্যা দিয়ে সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহল তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।
দীর্ঘদিন ধরে চলা এই স্পর্শকাতর মামলার রায়ে বড় বড় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও প্রভাবশালীরা খালাস পেয়ে গেলেও, একজন আল্লাহর কালামের ধারক—পবিত্র কোরআনে হাফেজ আজিজ নাঈমের সর্বোচ্চ সাজা হওয়ায় বিচারব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে।
একই ঘটনার মামলায় রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিরা খালাস পেয়ে গেলেন, অথচ হাফেজ আজিজ নাঈমকে ফাঁ/সির কাষ্ঠে ঝুলানোর আদেশ দেওয়া হলো। একে রাষ্ট্রের দ্বিমুখী নীতি ও সাধারণ মানুষের ওপর জুলুম হিসেবে দেখছেন অনেকে।
আল্লাহর পবিত্র বাণী যিনি হৃদয়ে ধারণ করেছেন, এমন একজন হাফেজের প্রতি এই রায়কে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না ধর্মপ্রাণ নাগরিকেরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে অনেকেই বলছেন, হাফেজ আজিজ নাঈম ত্রুটিপূর্ণ তদন্ত কিংবা কোনো গভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন।
এই রায়ের পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে “তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ” জানিয়ে হাজার হাজার মানুষ সোচ্চার হয়েছেন। ক্ষুব্ধ নেটিজেনরা প্রশ্ন তুলেছেন, “একই মামলায় বাবর, আরিফুল, গউছ সাহেবরা খালাস পেলে হাফেজ আজিজ নাঈমের মৃ/ত্যুদণ্ড হবে কেন? এটাই কি রাষ্ট্রের ইনসাফ?”
প্রতিবাদকারীদের দাবি, দেশের বিচারব্যবস্থায় যেন কোনো আলেম, ওলামা বা সাধারণ ধর্মীয় ব্যক্তিত্বকে রাজনৈতিক বলির পাঁঠা বানানো না হয়। অবিলম্বে এই রায়ের পুনর্বিবেচনা এবং উচ্চ আদালতে আপিলের মাধ্যমে হাফেজ আজিজ নাঈমের প্রতি প্রকৃত ইনসাফ ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জোর দাবি জানানো হচ্ছে।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST