সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার ১ নং উত্তর বংশীকুন্ডা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে সরকারি সহায়তা, ভিজিডির চাল ও বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তামূলক সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকার অভিযোগ তুলেছেন। এতে এলাকাজুড়ে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য মরহুম সবুজ মিয়া জীবিত থাকাকালে নিয়মিত গরিব ও অসহায় মানুষের খোঁজখবর নিতেন এবং সরকারি সহায়তা কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতেন। কিন্তু প্রায় আট মাস আগে তাঁর মৃত্যুর পর থেকে ওয়ার্ডটির সাধারণ মানুষ কার্যত অবহেলিত হয়ে পড়েছেন। ফলে প্রকৃত উপকারভোগীদের অনেকেই সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
কলতাপাড়া গ্রামের মোছা. ফাতেমা বিবি বলেন,
“আগে মেম্বার সাহেব গরিব মানুষের খবর রাখতেন। কার ঘরে খাবার নেই, কে কষ্টে আছে— সব দেখতেন। এখন আমাদের কথা শোনার মতো কেউ নেই।”
রেংচিপাড়ার ববিতা মানকিন বলেন,
“সম্প্রতি ভিজিডির চাল বিতরণ হয়েছে, কিন্তু আমাদের ওয়ার্ডের অনেক অসহায় পরিবার কিছুই পায়নি। প্রকৃত গরিবদের তালিকা করে সহায়তা দেওয়া উচিত।”
ঘিলাগড়ার কৃষক বিল্লাল হোসেন বলেন,
“বন্যায় আমাদের ফসল নষ্ট হয়েছে। পরে বিভিন্ন সংস্থা সহায়তা দিলেও আমরা অনেকেই কিছু পাইনি। ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে সঠিকভাবে সহায়তা বণ্টন হওয়া দরকার।”
কলতাপাড়ার মো. আব্দুল মোতালেব বলেন,
“মেম্বার মারা গেছেন, কিন্তু এই ওয়ার্ডের মানুষ তো মারা যায়নি। তাহলে কেন আমাদের বারবার অবহেলা করা হবে?”
মো. আব্দুল লতিফ মিয়া বলেন,
“দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব। আমরা চাই দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হোক।”
এ ছাড়া অভিযোগকারীরা দাবি করেন, তাঁদের জনপ্রতিনিধি মারা যাওয়ার পর থেকে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সহায়তা মূলত স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের মাধ্যমে বিতরণ করা হচ্ছে। ফলে রাজনৈতিক পরিচয় বা যোগাযোগ না থাকায় অনেক প্রকৃত অসহায় পরিবার সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে তাঁরা অভিযোগ করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সম্প্রতি ভিজিডির চাল বিতরণে ২ নম্বর ওয়ার্ডের অনেক দরিদ্র পরিবার বাদ পড়েছে। এ ছাড়া বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে বিভিন্ন সংস্থার সহায়তা বিতরণ করা হলেও এ ওয়ার্ডের অনেক পরিবার কোনো সহযোগিতা পাননি।
এ বিষয়ে ১ নং উত্তর বংশীকুন্ডা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর নবীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,
“সরকারি সহায়তা ও অনুদান সঠিকভাবেই বিতরণ করা হচ্ছে। তবে সত্য বলতে এলাকার বেশিরভাগ মানুষই গরিব। কিন্তু সবাইকে তো আমরা দিতে পারতেছি না। আমাদের যতটুকু পরিমাণ অনুদান আসছে, আমরা ততটুকু পরিমাণ দেওয়ার চেষ্টা করছি।”
তিনি আরও বলেন, প্রকৃত অসহায়দের অগ্রাধিকার দিয়েই সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
তবে এলাকাবাসীর দাবি, প্রকৃত দরিদ্র ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা পুনরায় যাচাই করে বঞ্চিতদের দ্রুত সহায়তার আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে সহায়তা বণ্টনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST