সাবেক রাষ্ট্রপতি, সাবেক সেনাপ্রধান এবং জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান পল্লীবন্ধু আলহাজ্ব হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন ও দেশের জন্য তার অবদান স্মরণ করে জাতীয় পার্টির আইসিটিপি অ্যাক্টিভিস্ট কেন্দ্রীয় সদস্য এম ইরফান হোসেন বলেছেন, পল্লীবন্ধু এরশাদ ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতির এক অনন্য ব্যক্তিত্ব। দেশের উন্নয়ন, প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ এবং সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে তার অবদান ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
এম ইরফান হোসেন বলেন, “পল্লীবন্ধু আলহাজ্ব হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ছিলেন একজন দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক। তিনি দেশের মানুষের কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে রাজনীতি করেছেন। বিশেষ করে গ্রামীণ জনপদের উন্নয়ন, অবহেলিত মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন এবং দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।”
তিনি বলেন, “হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ১৯৩০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একজন মেধাবী ও দক্ষ সামরিক কর্মকর্তা হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কর্মজীবন শুরু করেন। দীর্ঘ সামরিক জীবনে নিজের যোগ্যতা, নেতৃত্ব ও দক্ষতার মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সর্বোচ্চ পদ সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।”
জাতীয় পার্টির এই নেতা আরও বলেন, “দেশের প্রয়োজনে তিনি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড গ্রহণ করেন। তার সময়ে উপজেলা ব্যবস্থা প্রবর্তন, স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের উন্নয়নে নেওয়া পদক্ষেপগুলো আজও আলোচিত।”
এম ইরফান হোসেন বলেন, “পল্লীবন্ধু এরশাদ সবসময় দেশের সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করতেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, দেশের উন্নয়ন করতে হলে গ্রাম ও গ্রামের মানুষের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। সেই লক্ষ্যেই তিনি পল্লী উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কর্মসূচির ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন।”
তিনি আরও বলেন, “১৯৮৬ সালে পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে জাতীয় পার্টি দেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তিনি আমৃত্যু জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রেখে মানুষের অধিকার আদায়ে কাজ করেছেন।”
এম ইরফান হোসেন বলেন, “পল্লীবন্ধু এরশাদের রাজনৈতিক দর্শন ছিল মানুষের কল্যাণ ও দেশের উন্নয়ন। তার কর্মময় জীবন থেকে নতুন প্রজন্ম দেশপ্রেম, জনসেবা ও মানুষের পাশে থাকার শিক্ষা নিতে পারে।”
তিনি বলেন, “২০১৯ সালের ১৪ জুলাই পল্লীবন্ধু আলহাজ্ব হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ইন্তেকাল করেন। তার মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর শোক নেমে আসে। তিনি তার কর্ম, আদর্শ ও মানুষের প্রতি ভালোবাসার মাধ্যমে চিরদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।”
সবশেষে এম ইরফান হোসেন বলেন, “পল্লীবন্ধু আলহাজ্ব হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ছিলেন জাতীয় পার্টির প্রাণপুরুষ। তার আদর্শ ও দেখানো পথ অনুসরণ করে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাবে।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST