শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে
গভীর রাত পর্যন্ত উচ্চ শব্দে মাইক ও সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহারের প্রতিবাদে ব্যতিক্রমী কর্মসূচি পালন করেছেন এক কলেজ শিক্ষক। কানে তুলা লাগিয়ে, গলায় প্রতিবাদী ব্যানার ঝুলিয়ে এবং হাতে থালা-চামচ বাজিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের সামনে প্রতীকী অবস্থান নিয়ে তিনি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
রবিবার (১২ জুলাই) দুপুরে এমন কর্মসূচি পালন করেন উপজেলার হাজী নুরুল হক নন্নী-পোড়াগাঁও মৈত্রী কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক মো. নুরুজ্জামান। তিনি উপজেলার নালিতাবাড়ী ইউনিয়নের বাসিন্দা।
তার গলায় ঝোলানো ব্যানারে লেখা ছিল- ‘শব্দদূষণ বন্ধ চাই, নিরাপদ পৃথিবী চাই’। শব্দদূষণে জনজীবনের দুর্ভোগ তুলে ধরতেই তিনি এ প্রতীকী কর্মসূচি পালন করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, শুরুতে তিনি একাই কর্মসূচি পালন করলেও পরে পথচারী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীসহ অনেকে তাঁর সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন।
মনকোরা গ্রামের পথচারী সোলাইমান বলেন, ‘এই ব্যতিক্রমী প্রতিবাদে আমি একমত। শব্দদূষণে আমরা দৈনিক ভোগান্তির শিকার হচ্ছি। আমি এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই।’
স্থানীয় ব্যবসায়ী সোহেল রানা জানান, মাইকের
‘উচ্চ শব্দের জন্য দোকানে বসে থাকা কষ্ট হয়। অনেক সময় ক্রেতাদের কথাও ঠিকমতো শোনা যায় না।’
প্রতিবাদকারী শিক্ষক বলেন, এইচএসসি পরীক্ষা চলাকালেও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিয়ে, খৎনা ও নানা অনুষ্ঠানে গভীর রাত পর্যন্ত উচ্চ শব্দে মাইক ও ডিজে বক্স বাজানো হচ্ছে। এতে পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছে। ব্যক্তিগতভাবে অনুরোধ করেও কোনো প্রতিকার না পেয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণে আমি এ প্রতীকী প্রতিবাদের পথ বেছে নিয়েছি।
কর্মসূচি শেষে তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট শব্দদূষণ রোধে ৬ দফা সুপারিশসংবলিত একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন। স্মারকলিপিতে রাত ১০টার পর উচ্চ শব্দে মাইক বাজানো বন্ধ, আবাসিক এলাকাকে ‘সাইলেন্স জোন’ ঘোষণা, ডেকোরেটর ও সাউন্ড সিস্টেম ব্যবসায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার দাবি জানান।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আব্দুল মালেক সাংবাদিক বলেন, স্মারকলিপি পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা পূর্বক শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST