মধ্যনগরবাসীর স্বপ্নের সড়ক মহিষখলা বাজার থেকে লাউরেরঘর পর্যন্ত এলজিইডির গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের সংস্কারকাজ আটকে আছে বন বিভাগের গাছের বাধায়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বারবার তাগাদা দিলেও বন বিভাগ গাছ অপসারণে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। ফলে বাধ্য হয়ে গাছের পাশ দিয়েই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন ঠিকাদার। এতে কাজের মান নিয়ে শঙ্কা ও জনদুর্ভোগ দুটোই বাড়ছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতায় ২০২৩ সালের শেষ দিকে মেসার্স জামিল এন্টারপ্রাইজ সড়কটির সংস্কারকাজের দায়িত্ব পায়। জেলা সদরের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের এই সড়কটি মধ্যনগরবাসীর কাছে ‘স্বপ্নের সড়ক’ নামে পরিচিত।
কাজের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সড়কের মাঝখানে বন বিভাগের বেশ কিছু গাছ থাকায় তারা কাজ এগিয়ে নিতে পারছেন না। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের এক প্রকৌশলী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা বন বিভাগকে লিখিত ও মৌখিকভাবে বহুবার জানিয়েছি। তারা কোনো ব্যবস্থাই নিচ্ছে না। সময়মতো কাজ শেষ করতে না পারলে আমাদেরই জবাবদিহি করতে হবে। তাই বাধ্য হয়ে গাছের পাশ দিয়েই কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।”
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গাছ রেখেই দুই পাশে মাটি ভরাট ও ইটের সোলিং করা হচ্ছে। কোথাও গাছের গোড়া ঘেঁষে রাস্তা বানানো হচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে গাছ উপড়ে পড়ে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে খণ্ড খণ্ডভাবে কাজ করায় কোথাও রাস্তা খোঁড়া, কোথাও আধা-সমাপ্ত অবস্থায় পড়ে আছে।
মহিষখলার বাসিন্দা মাদ্রাসা শিক্ষক মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, “এটা আমাদের স্বপ্নের রাস্তা। কিন্তু গাছের কারণে কাজের এই হাল দেখে কষ্ট লাগে। রোগী নিয়ে হাসপাতালে যেতে পারি না। বন বিভাগের গাফিলতির দায় আমরা কেন নেব?”
বন বিভাগের সামাজিক বনায়নের স্থানীয় উপকারভোগী গ্রুপের সভাপতি মুক্তার হোসেন বলেন, “আমরাও বারবার বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। কিন্তু তারা বিষয়টি আমলে নিচ্ছে না।”
গাছ অপসারণে বিলম্বের কারণ জানতে মধ্যনগর ও ধর্মপাশা উপজেলা বন কর্মকর্তার কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।
এদিকে সড়কের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, রোগী বহনকারী যানবাহন ও পণ্য পরিবহনকারীরা। সামান্য দূরত্ব পাড়ি দিতেও সময় লাগছে কয়েকগুণ বেশি।
দ্রুত গাছ অপসারণ করে পরিকল্পনা অনুযায়ী সড়কের কাজ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয়রা।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST