ময়মনসিংহ বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
বিভাগীয় পর্যায়ের নৌযান সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) নৌপরিবহন অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান কার্যালয় (বিবিএস) কর্তৃক নৌযান শুমারি-২০২৬ বিষয়ক অবহিতকরণ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির সরকার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপারেশনস) সালাউদ্দিন তালুকদার। এছাড়াও বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডাঃ প্রদীপ কুমার সাহা, জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রেজা মো: গোলাম মাসুম প্রধান উপস্থিত ছিলেন। জেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় পরিসংখ্যান কার্যালয়ের যুগ্মপরিচালক ফিরোজ ইবনে ইউসুফ। এতে সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মোঃ আজাদ জাহান। এছাড়াও ময়মনসিংহের সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কার্যালয়ের দপ্তরপ্রধানগণ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংবাদকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
সভায় জানানো হয়, বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। একসময় নদীপথই ছিল পণ্য পরিবহন ও আঞ্চলিক কানেক্টিভিটির প্রধান মাধ্যম। প্রথমবারের মতো নৌযান শুমারি-২০২৬ দেশব্যাপী আগামী ২০ আগস্ট থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে অনুষ্ঠিত হবে। এতে ইঞ্জিনচালিত নৌযান যেমন ইঞ্জিনচালিত নৌকা ও ড্রেজার গণনা করা হবে। ময়মনসিংহ বিভাগে মোট ইঞ্জিনচালিত নৌযান রয়েছে ৮ হাজার ৭৯০টি, যার মধ্যে ঘাটভিত্তিক ২ হাজার ৫৫০টি আর খানাভিত্তিক ৬ হাজার ২৪০টি। এ নৌযান শুমারির ফলে দেশের সমুদ্রগামী, উপকূলীয় এবং অভ্যন্তরীণ জলসীমায় চলাচলকারী ইঞ্জিনচালিত ছোটবড় সকল নৌযানের সঠিক সংখ্যা, ধরন ও কাঠামোগত বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানা যাবে। এটি নৌপরিবহন খাতের আধুনিকায়ন, নৌযানের নিরাপত্তা, নৌ-দুর্ঘটনা হ্রাস এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ নাবিক তৈরিতে ভূমিকা পালন করবে।
প্রধান অতিথি বলেন, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এবং নৌপরিবহন অধিদপ্তর সম্মিলিতভাবে নৌযান তালিকাভুক্তি ও তদারকি করে থাকেন। নৌপথে দুর্ঘটনা, ডাকাতি ও দস্যুতা ঠেকাতে নৌযান শুমারি অতি জরুরি। কারণ সড়কপথের গাড়ির নম্বরপ্লেটের মতো তাদের রেজিষ্ট্রেশন নম্বর থাকলে এসব নৌযান ব্যবহার করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পাদন করতে ভয় পাবে। ময়মনসিংহ বিভাগে বরিশাল ও অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে নৌযান তুলনামূলক কম, তবুও ব্রহ্মপুত্র নদীতে বালুবাহী বাল্কহেড ঠিকমতো না চললে ছোট ছোট ট্রলার ও নৌকা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। প্রচলিত আইনানুযায়ী নৌযান রেজিষ্ট্রেশন, চালকদের প্রশিক্ষণ ও নৌযানের ফিটনেস নথিভুক্ত করতে হবে। এতে ভবিষ্যতে নৌযান মালিকরাও উপকৃত হবেন। কারণ সড়ক দুর্ঘটনায় নিবন্ধিত ক্ষতিগ্রস্তদের সরকার আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে, নিবন্ধিত থাকলে নৌপথে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদেরও এটি দেওয়া শুরু হবে। নৌযান মালিকরা সঠিক তথ্য দিয়ে নৌযান শুমারিতে সহায়তা করুন।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST