
হুসাইন বিন আফতাব, নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা:
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে চেতনানাশক স্প্রে করে একই রাতে দুটি পরিবারে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১ জুলাই) দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে শ্যামনগর পৌরসভার বাদঘাটা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দুই পরিবারের অন্তত ছয়জন সদস্য অসুস্থ হয়ে পড়েছেন, যাদের শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা যায়, বাদঘাটা গ্রামের আইসিএম কৃষি ক্লাবের সভাপতি ও প্রাক্তন ইউপি সদস্য দেবীরঞ্জন মন্ডল (৬৫) এবং তার কাকাতো ভাই প্রাক্তন ইউপি সদস্য চিত্তরঞ্জন মন্ডল (৬০)-এর বাড়িতে এই ডাকাতির ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, রাতের খাবার শেষে সবাই ঘুমিয়ে পড়েন। রাত সাড়ে ১১টার দিকে দেবীরঞ্জনের কন্যা শিউলী মন্ডল মোবাইল ফোনে স্বামী পলাশ মজুমদারের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলছিলেন। কথা বলার একপর্যায়ে তিনি মাথা ঘোরার অভিযোগ করে কাতরাতে থাকেন এবং হঠাৎ ফোন হাত থেকে পড়ে যায়।
ফোন সংযোগ চালু থাকা অবস্থায় কথা না পেয়ে পলাশ মজুমদার প্রথমে শশুর দেবীরঞ্জনের মোবাইলে ফোন দেন। কিন্তু সাড়া না পেয়ে দ্রুত বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথেই দেবীরঞ্জনের ছেলে ধৃতিমান মন্ডল তাকে ফোন করে জানায়, তার বাবাও মাথা ঘোরা ও ঝাপসা দেখার কথা বলছেন এবং পরিস্থিতি গুরুতর মনে হচ্ছে।
পলাশ মজুমদার জানান, বাড়িতে এসে দেখতে পান গেইটে তালা যেমন ছিল, তেমনই রয়েছে। তবে ঘরের দরজা ভাঙা। ভেতরে প্রবেশ করে পরিবারের সদস্যদের অচেতন অবস্থায় মেঝেতে ও খাটের উপর পড়ে থাকতে দেখেন। দোতলায় গিয়ে বোঝা যায়, পেছনের গাছ বেয়ে দুর্বৃত্তরা উঠে এসেছে। আলমারির ড্রয়ার খুলে জিনিসপত্র ছড়ানো অবস্থায় দেখা যায়। একই অবস্থা দেখা যায় পাশের চিত্তরঞ্জন মন্ডলের বাড়িতেও। সেখানেও তিনিসহ তার স্ত্রী নিলীমা রানী অচেতন অবস্থায় পড়ে ছিলেন।
পরে স্থানীয় গ্রাম্য ডাক্তার মোঃ ফারুক হোসেন এসে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন এবং জানান, ধারণা করা হচ্ছে চেতনানাশক স্প্রে করা হয়েছে। ভোররাত পর্যন্ত অচেতন অবস্থায় থাকা এসব সদস্যদের পরদিন সকালে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পলাশ মজুমদার আরও জানান, তাদের বাড়ি থেকে দুই জোড়া ২ ভরি ওজনের কানের দুল, একটি ২ ভরির সোনার হার, ৩টি সোনার চেইন (৪ ভরি), ৪টি সোনার আংটি (দেড় ভরি), এবং নগদ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা লুটে নেয় ডাকাতরা। চিত্তরঞ্জনের পরিবারের দুই সদস্যের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের ঘর থেকে কী কী লুট হয়েছে তা এখনও নির্দিষ্ট করে জানা যায়নি।
এ বিষয়ে শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ হুমায়ুন কবীর মোল্লা জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই একটি পুলিশ দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে এবং লিখিত অভিযোগ পাওয়া মাত্রই প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
ডাকাতির এমন ঘটনা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে। সাধারণ মানুষ দ্রুত দোষীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST