ঢাকা, ১২ জুন ২০২৬ দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও একের পর এক জটিলতা পেরিয়ে অবশেষে সম্পূর্ণ কারামুক্ত হয়েছেন জাতীয় পার্টির অন্যতম প্রেসিডিয়াম সদস্য তিনবারের সংসদ সদস্য জনাব গোলাম কিবরিয়া টিপু। বিগত ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর থেকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের আমল মিলিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে সর্বমোট ১০টি মামলা দায়ের করা হয়। প্রতিটি মামলাতেই তিনি পর্যায়ক্রমে বিজ্ঞ আদালত থেকে জামিন লাভ করেন।
তবে জামিন পাওয়ার পরও তাঁর মুক্তির পথ বারবার দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার ঠিক পূর্বমুহূর্তে প্রথমে বংশাল থানার একটি মামলায় তাঁকে ‘শ্যোন অ্যারেস্ট’ (Shown Arrest) দেখানোর আবেদন করা হয়। সেই সংকটের মুহূর্তে বিজ্ঞ আদালতে তাঁর পক্ষে ঢাল হয়ে দাঁড়ান জাতীয় পার্টির মাননীয় মহাসচিব। আদালতে মহাসচিব মহোদয়ের দূরদর্শী ও যৌক্তিক শুনানিতে সন্তুষ্ট হয়ে বিজ্ঞ আদালত সেই শ্যোন অ্যারেস্টের আবেদনটি নামঞ্জুর করেন।
কিন্তু আইনি প্রতিবন্ধকতা সেখানেই শেষ হয়নি। বংশাল থানার মামলা থেকে মুক্তির আদেশ আসার পর, আবারও বরিশাল জেলার মূলাদী থানার একটি পেন্ডিং মামলায় তাঁকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানোর নতুন আবেদন করা হয়। এই জটিলতা নিরসনে মাননীয় মহাসচিব স্বয়ং দুই-দুইবার বরিশাল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে হাজির হয়ে সরাসরি শুনানিতে অংশ নেন।
গতকাল, ১১ জুন ২০২৬, অনুষ্ঠিত হয় এই মামলার সর্বশেষ ও চূড়ান্ত (১১ নম্বর) শুনানি। আর এই গুরুত্বপূর্ণ শেষ শুনানিতেই সরাসরি যুক্ত হন জাতীয় পার্টির মাননীয় মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী।
মহাসচিবের এই আইনি লড়াইয়ের সারথী ও প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে তাঁর বিশেষ টিমে উপস্থিত থাকার বহ্নি বেপারী, সাথে আরও ছিলেন জাতীয় পার্টির মাননীয় চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা খলিলুর রহমান খলিল এবং বিশিষ্ট আইনজীবী অ্যাডভোকেট সফিনুর ইসলাম।
আমার ব্যক্তিগত জীবনের অভিজ্ঞতায় এই প্রথম কোনো আদালতের এজলাসে বসে সরাসরি লাইভ শুনানি দেখার অভিজ্ঞতা হলো। আর প্রথমবারই যা দেখলাম, তা এককথায় দুর্দান্ত এবং অবিস্মরণীয়! বিজ্ঞ বিচারকের সামনে ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারীর শানিত বক্তব্য, অকাট্য আইনি যুক্তি এবং সুনিপুণ তথ্য-প্রমাণের উপস্থাপন ছিল সত্যিই দেখার মতো। তাঁর প্রতিটি যুক্তি আইনি কৌশলের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
মহাসচিবের সেই বলিষ্ঠ ও প্রাঞ্জল শুনানিতে সন্তুষ্ট হয়ে গতকালই বরিশাল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট গোলাম কিবরিয়া টিপুর বিরুদ্ধে আনা শ্যোন অ্যারেস্টের আবেদনটি চূড়ান্তভাবে নামঞ্জুর করেন। গতকালই আদালতের নামঞ্জুর আদেশ এবং পিডব্লিউ রিকল (PW Recall) কারাগারে পৌঁছানোর পর আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তি পান জনাব গোলাম কিবরিয়া টিপু। বর্তমানে তিনি সম্পূর্ণ কারামুক্ত এবং তাঁর বিরুদ্ধে আর কোনো পেন্ডিং মামলা নেই।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST