পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদে প্রবাসীর বাড়িতে চুরি করতে গিয়ে নাঈম (২৫) নামে এক ছাত্রলীগ কর্মীক আটক হয়েছে। আটকের পূর্বে তার ছুরিকাঘাতে প্রবাসীর স্ত্রী, কন্যা ও এক প্রতিবেশীসহ ৪জন আহত হয়েছেন। আহতদের নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্বরূপকাঠী পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। আটক নাঈম ওই এলাকার মো. রফিক মিয়ার ছেলে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত উপজেলা ছাত্রলীগের সক্রিয় সদস্য।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রবাসী ইলিয়াস হোসেনের বাড়ির পাশে থাকা একটি সুপারি গাছ বেয়ে উঠে নাঈম ঘরে প্রবেশ করেন। এ সময় ঘরে থাকা ইলিয়াস হোসেনের স্ত্রী নাজমা আক্তার তাকে দেখে ফেলেন। নাজমা মোবাইল ফোনে বিষয়টি জানানোর চেষ্টা করলে নাঈম তাকে বাধা দেন। এক পর্যায়ে হাতে থাকা ছুরি দিয়ে নাজমাকে আঘাত করা হয়। নাজমার চিৎকার শুনে তার মেয়ে এগিয়ে এলে তাকেও আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে প্রতিবেশী জাহাঙ্গীর হোসেনের ছেলে নুহিন মিয়া তাদের উদ্ধারে এগিয়ে এলে তাকেও ছুরিকাঘাত করে আহত করা হয়। এছাড়াও নাজমার শ্বশুর সুরের আঘাতে আহত হয়েছেন বলে জানান প্রতিবেশীরা। আহতদের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ছুটে এসে নাঈমকে পাকড়াও করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নাজমা আক্তার বলেন, ঘরে কাজ করার সময় হঠাৎ দেখি নাঈম সুপারি গাছ বেয়ে ঘরে ঢুকেছে। আমি মোবাইলে ফোন করতে গেলে সে বাধা দেয়। পরে চিৎকার করলে ছুরি দিয়ে আমাকে আঘাত করে। আমার মেয়ে ও প্রতিবেশী নুহিন এগিয়ে এলে তাদেরও আহত করা হয়।
প্রবাসী ইলিয়াস হোসেনের বড় ভাই মো. মিরাজ মিয়া বলেন, আমার ছোট ভাই দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে থাকে। এই সুযোগে নাঈম দিনদুপুরে বাড়িতে চুরি করতে এসেছিল বলে আমরা জানতে পেরেছি। হয়তো সে মনে করেছিল এ সময় ঘরে কেউ নেই।
নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, ঘটনায় নাঈমকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। আটকৃত নাঈমকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST