

পরিক্রমা রিপোর্ট
দুর্গাপূজা উপলক্ষে ফরিদপুর পুরাতন বাসস্ট্যান্ডে বড় বাস মালিক সমিতির পূজা মন্ডপে অদ্য ৩০/০৯/২০২৫ তারিখ দুপুর ১২.৩০ ঘটিকার সময় র্যাব-১০ এর অধিনায়ক এ্যাডিশনাল ডিআইজি মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, পিপিএম মহোদয় সাংবাদিকবৃন্দ ও হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মাঝে শান্তি-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সংক্রান্তে মত বিনিময় করেন।
র্যাব-১০ এর দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় ইতোমধ্যে পূজাকে ঘিরে একটি বিস্তৃত নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছে। ফরিদপুর জেলার ৭৫৭ টি এবং রাজবাড়ী জেলার ৪৪৪ টি পূজামণ্ডপে বিশেষ নিরাপত্তা টিম মোতায়েন করা হয়েছে। সার্বক্ষনিকভাবে র্যাবের ৪ টি রোবাস্ট পেট্রোল, ৬ টি মোটরসাইকেল টহল ও সাদা পোশাকে র্যাবের টিম নিয়োজিত আছে। এছাড়াও র্যাবের প্রশিক্ষিত কমান্ডো, বোম ডিসপোজাল ইউনিট ও ড্রোন টিম এলাকাভিত্তিক সার্বক্ষণিক নজরদারি করছে। টহল ও চেকপোস্ট কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে, বিশেষ করে পূজামণ্ডপের আশেপাশে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের চলাচলের ওপর কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে। র্যাব-১০ এর গোয়েন্দা শাখা স্থানীয় পূজা কমিটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয় রেখে কাজ করছে এবং সম্ভাব্য হুমকি চিহ্নিত করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানো, সাম্প্রদায়িক উসকানি প্রদান বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করতে পারে এমন যেকোনো কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে র্যাব-১০ এর সাইবার মনিটরিং সেল সার্বক্ষণিকভাবে কাজ করছে।
এবারের দুর্গাপূজায় র্যাব-১০ কেবল নিরাপত্তা নয়, বরং মানবিক সহায়তা ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার ক্ষেত্রেও বিশেষ ভূমিকা পালন করছে। পূজামণ্ডপে আগত নারী, শিশু, বয়স্ক এবং প্রতিবন্ধীদের সহায়তায় র্যাব-১০ এর পক্ষ থেকে হেল্প ডেস্ক স্থাপন করা হয়েছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপ এলাকায় জরুরি চিকিৎসা সেবা, বিশুদ্ধ পানি, এবং প্রাথমিক চিকিৎসা সরবরাহের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। র্যাবের সদস্যরা নিয়মিতভাবে মণ্ডপ পরিদর্শন করছেন, দর্শনার্থীদের সঙ্গে কথা বলছেন এবং যেকোনো প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক সহায়তা প্রদান করছেন। এছাড়াও, যানজট ও জনসমাগমকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলা রোধে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে র্যাব-১০ সমন্বয় করে কার্যকরী ভূমিকা রাখছে। পূজার সময়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাতে বিঘ্নিত না হয়, সেজন্য র্যাব-১০ এর ভ্রাম্যমাণ আদালত ও মোবাইল টিমও প্রস্তুত রয়েছে।
র্যাব-১০ মনে করে, ধর্মীয় উৎসব শুধুই একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর উদযাপন নয়, বরং এটি বাংলাদেশের বহুজাতিক ও বহুধর্মীয় সমাজের ঐক্য ও সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল নিদর্শন। সেই লক্ষ্যে র্যাব-১০ এর প্রতিটি সদস্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থেকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, সততা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। সকল নাগরিকের সহযোগিতা ও সচেতন অংশগ্রহণেই একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ দুর্গাপূজা নিশ্চিত করা সম্ভব।পরিশেষে, র্যাব-১০ পূজামণ্ডপে আগত সকল দর্শনার্থী, পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় প্রশাসন ও গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে। আমরা আশা করি, আপনাদের সহযোগিতায় এই উৎসব হয়ে উঠবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত এবং বাংলাদেশের ঐক্যবদ্ধ সংস্কৃতির প্রতিফলন।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST