ভোলা সদর উপজেলার বাপ্তা ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের জমদ্দার বাড়ির বাসিন্দা মোঃ রাকিবকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ও চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। রাকিবের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বাসিন্দা রাসেল, তার স্ত্রী এবং পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩ এপ্রিল (শুক্রবার) দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে মসজিদ থেকে বের হয়ে বাড়ি ফেরার পথে রাসেল ও তার ছেলে মিরাজের নেতৃত্বে ৮–১০ জন রাকিবের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলার সময় তাকে মারধর করা হয় এবং ভয়ভীতি দেখানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে রাকিবকে উদ্ধার করেন।
অভিযোগ উঠেছে, রমজান মাসে রাকিবের কাছ থেকে প্রায় ৩০ কেজি মাছ কেনে রাসেলের পরিবার। মাছের মোট মূল্য ছিল ৬ হাজার টাকা। এর মধ্যে মাত্র ২ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়, আর বাকি ৪ হাজার টাকা দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া রাখা হয়। পাওনা টাকা চাইতে গেলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে রাসেল, তার ছেলে মিরাজ এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা। একপর্যায়ে তারা টাকা অস্বীকার করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, রাসেল ও তার ছেলে মিরাজ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বেপরোয়া আচরণের জন্য পরিচিত। তাদের বিরুদ্ধে নানা অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এমনকি মাদক সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের সঙ্গেও তাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ স্থানীয়দের মুখে শোনা গেছে।
এ ছাড়াও, স্থানীয়দের মধ্যে আরও একটি পুরনো ঘটনার কথাও আলোচনায় এসেছে। তাদের দাবি, প্রায় দুই বছর আগে রাসেলের স্ত্রী আলিফা বেগম ব্যাংকের হার্ট কো-অপারেটিভ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় ধরা পড়েছিলেন এবং পরবর্তীতে বিষয়টি অর্থের বিনিময়ে মীমাংসা করা হয়েছে। তবে এই অভিযোগের স্বতন্ত্র কোনো প্রমাণ তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে অভিযুক্ত রাসেল রাকিবকে নিয়ে প্রকাশ্যেই প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তিনি কঠোর ও উত্তেজিত ভাষায় রাকিবের বিরুদ্ধে মন্তব্য করেন এবং তাকে দেখে নেওয়ার হুমকিও দেন। তিনি জোর গলায় বলেন, পুলিশ তার বাসায় পরিদর্শনে এলে তিনি তাদেরকেও জানিয়েছেন যে রাকিবকে তিনি মারবেন। এ সময় তার বক্তব্যে আক্রমণাত্মক ও কঠোর মনোভাব প্রকাশ পায় বলে জানা যায়।
এদিকে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে রাকিবকে উদ্দেশ্য করে সরাসরি প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয়রা দাবি করছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
ঘটনার পর থেকে এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা দ্রুত তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, “এ ধরনের সন্ত্রাসী আচরণ দ্রুত দমন করা না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে।”
এ অবস্থায় রাকিব ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের দৃশ্যমান পদক্ষেপ জরুরি হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST