গ্রীষ্মের প্রচণ্ড দাবদাহে পুড়ছে রাজবাড়ী। অসহনীয় এই গরমের মধ্যে জেলায় ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিভ্রাট। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে এসএসসি পরীক্ষার্থী, শিক্ষার্থীসহ জেলার সর্বস্তরের মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে।
গত কয়েক দিন ধরে দিন-রাত সমানতালে চলছে বিদ্যুতের আসা-যাওয়া। কখনো এক ঘণ্টা, আবার কখনো ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। বিশেষ করে রাতের বেলায় লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। মোমবাতি বা চার্জার লাইটের মৃদু আলোয় তীব্র গরমের মাঝে পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়া তাদের জন্য দুঃসহ হয়ে পড়েছে।
রাজবাড়ী সদর, গোয়ালন্দ, কালুখালী, পাংশা ও বালিয়াকান্দি—প্রতিটি উপজেলাতেই একই চিত্র দেখা গেছে। গোয়ালন্দ উপজেলার কয়েকজন এসএসসি পরীক্ষার্থী জানায়, একদিকে পরীক্ষার চাপ, অন্যদিকে প্রচণ্ড গরম ও লোডশেডিংয়ে তারা চরম অশান্তিতে আছে। চার্জার লাইটও দীর্ঘক্ষণ ব্যাকআপ দিতে পারছে না, ফলে পড়াশোনায় মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে।
মাঠে সেচ কাজে বিঘ্ন ঘটায় শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। তারা জানান, একদিকে জ্বালানি তেলের সংকট, অন্যদিকে বিদ্যুতের এই লুকোচুরিতে ফসল উৎপাদন নিয়ে তারা চরম দুশ্চিন্তায় আছেন। অন্যদিকে, ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে রাখা পচনশীল পণ্য নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে এবং গরমে দোকানে ক্রেতা না আসায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা।
এ বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের ঘাটতি এবং চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম থাকায় এই সাময়িক লোডশেডিং হচ্ছে। তবে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে বলে তারা আশ্বাস দেন।
বিদ্যুতের এই অসহনীয় লোডশেডিং কমিয়ে দ্রুত স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন রাজবাড়ীর ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST