রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলায় কৃষিপণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের প্রচলিত ‘ধলতা’ বা ‘শুকনা’ প্রথা বন্ধে কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন। কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় এবং বাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের এক সরকারি বিজ্ঞপ্তির বরাতে জানানো হয়, পেঁয়াজ, আলুসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য ক্রয়ের সময় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও মধ্যস্বত্বভোগী ‘ধলতা’ বা ‘শুকনা’ নামে অতিরিক্ত পণ্য আদায় করে থাকেন। দেখা যায়, ৪০ কেজি পণ্যের বিপরীতে কৃষকদের থেকে ৪২ কেজি থেকে শুরু করে ৪৫-৪৬ কেজি পর্যন্ত পণ্য দিতে বাধ্য করা হয়। এই প্রথাটিকে সম্পূর্ণ অনৈতিক ও কৃষকদের জন্য চরম ক্ষতিকর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এ ধরনের কার্যক্রম ‘ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড আইন, ২০১৮’ অনুযায়ী একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। কৃষকদের আর্থিক ক্ষতি রোধে এই অবৈধ প্রথা বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে কালুখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ মেজবাহ উদ্দিন বলেন, “নির্ধারিত ওজন অনুযায়ী কৃষিপণ্য ক্রয়-বিক্রয় নিশ্চিত করতে হবে। কোনোভাবেই অতিরিক্ত পণ্য নেওয়া যাবে না। এটি আইনত অপরাধ। বাজার ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও কৃষকের ন্যায্য অধিকার রক্ষায় প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ভবিষ্যতে কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
প্রশাসনের এই সময়োপযোগী উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। তারা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে তারা ফসলের ন্যায্য মূল্য পাবেন এবং ওজন নিয়ে প্রতারণার হাত থেকে মুক্তি পাবেন।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST