রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পুলিশের উদ্যোগে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ ট্রাফিক ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে “ট্রাফিক সচেতনতা কর্মসূচি–২০২৬ শুরু হয়েছে। শনিবার বিকেলে রাঙামাটি শহরের লেক ভিউ গার্ডেনে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও রাঙামাটির সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটির জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নাজমা আশরাফী। এছাড়াও রাঙামাটি জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ, রাঙামাটি প্রেসক্লাবের সভাপতি, স্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব, পিপিএম।
উদ্বোধনী পর্বে রাঙামাটি শহরে চলাচলরত অটোরিকশাগুলোতে কিউআর কোড সংবলিত স্টিকার সংযুক্ত করা হয় এবং মোটরসাইকেল চালকদের মাঝে হেলমেট বিতরণ করা হয়। এর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে “ট্রাফিক সচেতনতা কর্মসূচি–২০২৬” এর কার্যক্রম শুরু হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পার্বত্যমন্ত্রী এ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান বলেন, বর্তমান সময়ে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ, যানজট নিরসন এবং নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে জনসচেতনতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, রাঙামাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটননগরী হওয়ায় এখানে আধুনিক ও পর্যটনবান্ধব ট্রাফিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। তিনি জেলা পুলিশের উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, সম্প্রতি জ্বালানি তেল সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে জেলা পুলিশ অ্যাপসভিত্তিক যে কার্যক্রম পরিচালনা করেছিল, তা সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, এবার যানজট নিরসন, ট্যুরিস্ট বাস ও সিএনজি অটোরিকশাগুলোকে শৃঙ্খলার আওতায় আনা এবং নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশ যে ডিজিটাল ডাটাবেজ ও অ্যাপসভিত্তিক ব্যবস্থাপনা চালু করেছে, তা নিঃসন্দেহে সময়োপযোগী ও কার্যকর উদ্যোগ। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে চালকদের তথ্য সংরক্ষণ, পরিচয় শনাক্তকরণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
রাঙামাটি জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই কার্যক্রমের আওতায় রাঙামাটি শহরে চলাচলরত সকল সিএনজি থ্রি-হুইলার ও চালকদের একটি সমন্বিত ডিজিটাল ডাটাবেস প্রস্তুত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে জেলায় নিবন্ধিত ১,৪১৬টি সিএনজি, থ্রি-হুইলার সহস্রাধিক চালকের তথ্য সংগ্রহ ও নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। নিবন্ধিত যানবাহনে কিউআর কোড সংবলিত ডিজিটাল স্টিকার সংযুক্ত করা হবে। যাত্রী ও পর্যটকরা উক্ত কিউআর কোড স্ক্যান করে চালকের ছবি, নাম, ঠিকানা ও মোবাইল নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য জানতে পারবেন।
পাশাপাশি তারা পরিবহন সেবার মান সম্পর্কে রেটিং প্রদান করতে পারবেন এবং যানবাহনের গতি, চালকের আচরণ বা সেবার মান নিয়ে মতামত জানাতে পারবেন। যাত্রীদের প্রদত্ত রেটিংয়ের ভিত্তিতে চালকদের সামগ্রিক মূল্যায়ন নির্ধারিত হবে, যা ভবিষ্যৎ যাত্রীদের সচেতন সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে যাত্রীদের মতামত বিশ্লেষণের মাধ্যমে দক্ষ ও ঝুঁকিপূর্ণ চালকদের চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে যাত্রী নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং একটি নিরাপদ ও পর্যটকবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার পথ আরও সুদৃঢ় হবে।
অন্যদিকে “অনলাইন বাস টার্মিনাল (OBT)” ব্যবস্থার মাধ্যমে ট্যুরিস্ট ও যাত্রীবাহী বাসের তথ্য ব্যবস্থাপনা, যাত্রীসেবা উন্নয়ন এবং ডিজিটাল পার্কিং ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে যানজট নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখা হবে। পর্যটন মৌসুমসহ সারা বছর রাঙামাটি শহরে আগত ট্যুরিস্ট বাসগুলো শহরে প্রবেশের পূর্বেই ডিজিটাল নিবন্ধন সম্পন্ন করবে। পাশাপাশি আগত পর্যটক ও বাস কর্তৃপক্ষকে ই-মেইল বা মোবাইল বার্তার মাধ্যমে নির্ধারিত পার্কিং সংক্রান্ত তথ্য ও নির্দেশনা প্রদান করা হবে।
ইতোমধ্যে ট্যুরিস্ট বাসের ডিজিটাল পার্কিং ব্যবস্থাপনা চালুর ফলে বাস পরিচালনায় অধিকতর শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যত্রতত্র পার্কিং কমেছে এবং শহরের যানজট নিরসনে ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি হয়েছে। এই ডিজিটাল উদ্যোগের মাধ্যমে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতা বৃদ্ধি, যানজট ও অনিয়ম হ্রাস, যাত্রী হয়রানি কমানো এবং রাঙামাটি পার্বত্য জেলাকে একটি নিরাপদ, আধুনিক ও পর্যটকবান্ধব জেলা হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST