মুসলিমদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সিরাজদিখানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে থানা প্রশাসন। কুরবানির পশু পরিবহন, পশুর হাট পরিচালনা, আর্থিক লেনদেন এবং সাধারণ মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ঈদকে কেন্দ্র করে উপজেলার বিভিন্ন পশুর হাট ও গুরুত্বপূর্ণ বাজার এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সম্প্রতি সিরাজদিখান বাজারসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পুলিশ সদস্যদের অবস্থান লক্ষ্য করা গেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা, চুরি, ছিনতাই কিংবা বিশৃঙ্খলা এড়াতেই এ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, সিরাজদিখান উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রশাসনের অনুমোদিত পশুর হাটের পশু বিক্রির কার্যক্রম ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। প্রায় সবকটি ইউনিয়নে পশুর হাট বসা শুরু হযেছে বলে জানা গেছে। কোরবানির পশু নিয়ে যাতে খামারি, ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতারা নিরাপদ পরিবেশে হাটে আসতে পারেন, সে লক্ষ্যে প্রশাসনের বিশেষ তৎপরতা শুরু হয়েছে।
শুধু হাট এলাকাই নয়, ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে বিভিন্ন গ্রামাঞ্চল, পাড়া মহল্লা ও সড়কগুলোতেও গ্রাম পুলিশ প্রহরার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে, যাতে দূরদূরান্ত থেকে আসা গরু ব্যবসায়ী ও খামারিরা নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারেন এবং নিরাপদে আর্থিক লেনদেন সম্পন্ন করতে পারেন।
এ বিষয়ে সিরাজদিখান থানার ওসি আব্দুল হান্নান জানান, পুলিশ জনগণের বন্ধু। মানুষ যাতে শান্তিপূর্ণভাবে ঈদ উদযাপন করতে পারে এবং কোরবানির পশু কেনাবেচা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে পারে, সে লক্ষ্যে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রতিটি এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
এদিকে বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় জনগণ, পশুর হাটের ইজারাদার, গরুর মালিক ও ব্যবসায়ীরা। তারা জানান, প্রশাসনের এমন তৎপরতায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত হলে ঈদকে কেন্দ্র করে পশুর হাটগুলো আরও জমজমাট হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তারা।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST