সভাপতি, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশ
চেয়ারম্যান, ট্রাস্টি বোর্ড, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম
ত্যাগ আর কোরবানির মহিমান্বিত পবিত্র ঈদুল আজহা এসেছে আবারও। এই দিন শুধু উৎসবের নয়, এই দিন আত্মত্যাগ, ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানো এবং জুলুমের বিরুদ্ধে কণ্ঠস্বর উচ্চকিত করার দিন।
দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে, জেলা-উপজেলার মফস্বল থেকে রাজধানীর রাজপথ পর্যন্ত যেখানে কলম থামিয়ে দিতে চায় ক্ষমতার দাপট, সেখানেই আমরা দাঁড়িয়ে যাই। সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশ-এর সভাপতি হিসেবে আমি আহমেদ আবু জাফর বলতে চাই—আমাদের লড়াই ব্যক্তির নয়, এ লড়াই সত্যের, এ লড়াই গণতন্ত্রের, এ লড়াই সংবিধান স্বীকৃত বাকস্বাধীনতার।
গত ১৪ বছরে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া, রূপসা থেকে পাথরিয়া—যেখানেই কোনো সাংবাদিকের ওপর হামলা হয়েছে, মিথ্যা মামলা হয়েছে, হুমকি এসেছে, আমরা নীরব থাকিনি। রাত-দিন ভুলে ঘটনাস্থলে ছুটে গেছি, প্রশাসনের দরজায় কড়া নেড়েছি, আদালতে আইনি লড়াই লড়েছি। কারণ আমরা জানি, একজন সাংবাদিকের কণ্ঠরোধ মানে হাজারো মানুষের চোখ-কান বন্ধ করে দেওয়া।
ঈদুল আজহা আমাদের শেখায় ইব্রাহিম (আ.)-এর মতো নিঃস্বার্থ ত্যাগের শিক্ষা। তিনি আল্লাহর আদেশে প্রিয়তম সন্তানকে কোরবানি দিতে প্রস্তুত হয়েছিলেন। আমাদেরও ত্যাগ করতে হয়—আরাম, ভয়, স্বার্থের মোহ। মফস্বলের এক তরুণ সাংবাদিক যখন রাত ২টায় খবর পাঠায়, “ভাই, হামলা হয়েছে”, তখন ঘুম ভেঙে উঠে ফোন করাটাই আমার কোরবানি। এটাই আমাদের আদর্শ।
আজকের বাংলাদেশে সাংবাদিকতা কঠিনতম পেশাগুলোর একটি। সত্য লিখলে মামলা, ছবি তুললে মারধর, লাইভ করলে হুমকি। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, ভয় দেখিয়ে ইতিহাস বদলানো যায় না। বরং ইতিহাস তৈরি করেন তারাই, যারা অন্যায়ের সামনে মাথা নত করেন না।
বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম শুধু একটি সংগঠন নয়, এটি সারা দেশের নির্যাতিত সাংবাদিকদের পরিবার। এখানে পঞ্চগড়ের প্রতিনিধি থেকে কক্সবাজারের ফটোসাংবাদিক—সবাই সমান। আমাদের শক্তি আমাদের ঐক্য।
এই পবিত্র ঈদে আমার আহ্বান—আসুন, দল-মত-ধর্ম-পেশা ভুলে সাংবাদিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে এক হই। যে সমাজে সাংবাদিক নিরাপদ নয়, সে সমাজে কেউ নিরাপদ নয়। যে রাষ্ট্রে সত্য কথা বলা অপরাধ, সে রাষ্ট্র বেশিদিন টেকে না।
মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, এই কোরবানি আমাদের হৃদয় থেকে হিংসা, বিদ্বেষ আর ভয় দূর করে দিক। প্রতিটি ঘরে ফিরে আসুক শান্তি, প্রতিটি সংবাদকক্ষে ফিরে আসুক স্বাধীনতা।
*আহমেদ আবু জাফরের বক্তব্য:*
“আমি আহমেদ আবু জাফর, বাংলাদেশের মাটির সন্তান। ১৪ বছর ধরে আমি দেখেছি—যখনই কোনো সাংবাদিক সত্য লিখেছে, তখনই তার ওপর নেমে এসেছে নির্যাতন। কিন্তু আমি এও দেখেছি, যখন সারা দেশের সাংবাদিকরা এক হয়, তখন জালিমের হাত কাঁপে।
ঈদুল আজহার এই পবিত্র দিনে আমি শপথ করছি—শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত আমি মফস্বলের সেই নির্যাতিত সাংবাদিকের পাশে থাকব, যার খবর কেউ ছাপে না। ঢাকায় বসে বিবৃতি দিয়ে দায় সারা আমার কাজ নয়। ঘটনাস্থলে যাব, থানায় যাব, আদালতে দাঁড়াব।
মনে রাখবেন, সাংবাদিকের কলম যদি থেমে যায়, তবে গণতন্ত্রও থেমে যায়। তাই আসুন, এই ঈদে আমরা অঙ্গীকার করি—ভয়কে কোরবানি দেব, সত্যকে কোরবানি দেব না। বাংলাদেশের প্রতিটি সাংবাদিক জানুক, তুমি একা নও। আহমেদ আবু জাফর তোমার সাথে আছে, সারা বাংলাদেশের সাংবাদিক সমাজ তোমার সাথে আছে।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST