ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তে কেনা এই মাটিতে আজও কাঁদে ভাঙা স্মৃতিস্তম্ভ। সেই ক্ষতের ওপর দাঁড়িয়ে ‘মুক্তি যোদ্ধা সন্তান সংসদ’ জানালো হৃদয়ের আর্তনাদ—মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি রক্ষা করো, প্রকৃত বীরদের সম্মান ফিরিয়ে দাও।
সংগঠনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য চৌধুরী আ. জ. ম. খায়রুল বাশার রনি স্বাক্ষরিত এক আবেগঘন বিবৃতিতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে তিন দফা প্রাণের দাবি পেশ করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, “এটি সাড়া বাংলার মুক্তি পরিবারের পক্ষ হতে এক ব্যথিত মুক্তি সন্তানের কান্না, এক বুক অভিমানের দাবি।”
তিন দফা দাবি:১.শহীদের স্মৃতি বাঁচাও*
৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতি বিজড়িত স্থাপনাগুলো ভাঙচুর ও ধ্বংসের শিকার হয়েছে। যে স্মৃতিস্তম্ভের গায়ে লেখা আছে শহীদের নাম, সেই পাথর আজ মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, “এই ধ্বংস শুধু ইট-পাথরের নয়, এটা ইতিহাস মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র।” অবিলম্বে এসব স্থাপনা পুনঃস্থাপন ও সংরক্ষণের দাবি জানানো হয়।
২,আসল নকল আলাদা করো*
“মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল একটি দেশের জন্য, নির্দিষ্ট কোনো দলের জন্য নয়।” এই সত্যকে সামনে রেখে ‘মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়’ থেকে কথিত ‘চুক্তি যোদ্ধা’দের আলাদা করে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয় গঠনের দাবি তোলা হয়। বলা হয়, “যারা রণাঙ্গনে রক্ত দিয়েছে, তাদের নাম ভুয়া তালিকার ভিড়ে হারিয়ে যেতে পারে না।”
৩,জুলাই’ মাত্র এক মাসের আন্দোলন। তাকে ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের সমান বলা হলে সেটা শহীদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি। বিবৃতিতে বলা হয়, “তিরিশ লাখ প্রাণের দাম এক মাসের শ্লোগানে মাপা যায় না।” এ বিষয়ে রাষ্ট্রপ্রধানের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।
তারেক রহমানকে “বীর উত্তমের সন্তান” আখ্যা দিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, “আপনি শুধু রাষ্ট্রপ্রধান নন, আপনি আমাদের মুক্তি পরিবারের গর্ব। একজন বীরের সন্তান হয়ে আপনি নিশ্চয়ই বীরদের কষ্ট বুঝবেন।”
ক্সবাজার জেলায় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদদের স্বাগত জানিয়ে বলা হয়, মুক্তি পরিবার মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অতন্দ্র প্রহরী হয়ে থাকবে। যতদিন এই দেশ আছে, ততদিন শহীদের রক্তের দাম ভুলবে না।
শেষে বলা হয়, “কবরস্থানের পাশ দিয়ে যদি কেউ যায়…, মৃতরাও কিছু না কিছু চায়।” সেই চাওয়া—ইতিহাসের প্রতি সুবিচার, শহীদের প্রতি সম্মান।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST