শফিকুল ইসলাম শফিক : সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
১৫ জুন ২০২৬, ১:২৯ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি রক্ষা ও প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয়ের দাবি জানাল ‘মুক্তি যোদ্ধা সন্তান সংসদ

 

ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তে কেনা এই মাটিতে আজও কাঁদে ভাঙা স্মৃতিস্তম্ভ। সেই ক্ষতের ওপর দাঁড়িয়ে ‘মুক্তি যোদ্ধা সন্তান সংসদ’ জানালো হৃদয়ের আর্তনাদ—মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি রক্ষা করো, প্রকৃত বীরদের সম্মান ফিরিয়ে দাও।

সংগঠনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য চৌধুরী আ. জ. ম. খায়রুল বাশার রনি স্বাক্ষরিত এক আবেগঘন বিবৃতিতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে তিন দফা প্রাণের দাবি পেশ করা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, “এটি সাড়া বাংলার মুক্তি পরিবারের পক্ষ হতে এক ব্যথিত মুক্তি সন্তানের কান্না, এক বুক অভিমানের দাবি।”

তিন দফা দাবি:১.শহীদের স্মৃতি বাঁচাও*
৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতি বিজড়িত স্থাপনাগুলো ভাঙচুর ও ধ্বংসের শিকার হয়েছে। যে স্মৃতিস্তম্ভের গায়ে লেখা আছে শহীদের নাম, সেই পাথর আজ মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, “এই ধ্বংস শুধু ইট-পাথরের নয়, এটা ইতিহাস মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র।” অবিলম্বে এসব স্থাপনা পুনঃস্থাপন ও সংরক্ষণের দাবি জানানো হয়।

২,আসল নকল আলাদা করো*
“মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল একটি দেশের জন্য, নির্দিষ্ট কোনো দলের জন্য নয়।” এই সত্যকে সামনে রেখে ‘মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়’ থেকে কথিত ‘চুক্তি যোদ্ধা’দের আলাদা করে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয় গঠনের দাবি তোলা হয়। বলা হয়, “যারা রণাঙ্গনে রক্ত দিয়েছে, তাদের নাম ভুয়া তালিকার ভিড়ে হারিয়ে যেতে পারে না।”

৩,জুলাই’ মাত্র এক মাসের আন্দোলন। তাকে ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের সমান বলা হলে সেটা শহীদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি। বিবৃতিতে বলা হয়, “তিরিশ লাখ প্রাণের দাম এক মাসের শ্লোগানে মাপা যায় না।” এ বিষয়ে রাষ্ট্রপ্রধানের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।

তারেক রহমানকে “বীর উত্তমের সন্তান” আখ্যা দিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, “আপনি শুধু রাষ্ট্রপ্রধান নন, আপনি আমাদের মুক্তি পরিবারের গর্ব। একজন বীরের সন্তান হয়ে আপনি নিশ্চয়ই বীরদের কষ্ট বুঝবেন।”

ক্সবাজার জেলায় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদদের স্বাগত জানিয়ে বলা হয়, মুক্তি পরিবার মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অতন্দ্র প্রহরী হয়ে থাকবে। যতদিন এই দেশ আছে, ততদিন শহীদের রক্তের দাম ভুলবে না।

শেষে বলা হয়, “কবরস্থানের পাশ দিয়ে যদি কেউ যায়…, মৃতরাও কিছু না কিছু চায়।” সেই চাওয়া—ইতিহাসের প্রতি সুবিচার, শহীদের প্রতি সম্মান।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সত্যের মঞ্চ না রাজনৈতিক অঙ্গন? সাংবাদিকতা ও রাজনীতির সীমারেখা নিয়ে নতুন বৈশ্বিক ভাবনা

শ্রেষ্ঠ ওসি-সহ একাধিক পুরস্কার অর্জন করল আমতলী থানা

জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটে প্রথম শ্রেণি কর্মকর্তাদের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ পাঠ্যধারার সমাপন ও সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠান

বিভাগীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়ন সংক্রান্ত টাস্কফোর্স কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

মুন্সীগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযানে মাদকসহ আটক ৩

রাজবাড়ীতে গাঁজাসহ ৫ জন গ্রেফতার: মোবাইল কোর্টে সাজা

গুজব ও অপতথ্য মোকাবিলায় সাংবাদিকদের জোরালো ভূমিকা নিতে হবে: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

চালকের অসচেতনতার কারণে এক্সপ্রেসওয়ের ক্ষয়ক্ষতি ও দুর্ঘটনা

ফেসবুকে অপ-প্রচারের পটিয়া প্রেসক্লাবের বিবৃতিতে প্রতিবাদ

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি রক্ষা ও প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয়ের দাবি জানাল ‘মুক্তি যোদ্ধা সন্তান সংসদ

১০

নেত্রকোনায় জাবি শিক্ষার্থীকে মারধর ও ব্ল্যাকমেইল: প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

১১

মানব পাচার ও চোরাচালান প্রতিরোধে অংশীজনদের অংশগ্রহণে জেলা পর্যায়ের কর্মশালা অনুষ্ঠিত

১২

নড়াইলে অপ্রশস্ত মহাসড়কে আড়াই বছরে ৭৫ দুর্ঘটনা ঝরেছে ৪৫ প্রাণ, দ্রুত ফোর লেন বাস্তবায়নের দাবি

১৩

প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে ঝকঝকে মৌলভীবাজার, কিন্তু কুসুমবাগ-চৌমুহনা সড়কের দুর্ভোগ কি শেষ হবে?

১৪

কালুখালীতে নিখোঁজ কলেজছাত্রের হাত-পা বাঁধা অগ্নিদগ্ধ লাশ উদ্ধার

১৫

তথ্য গোপন, সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও দূর্নীতির অভিযোগে বিতর্কে মৌলভীবাজার সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী কায়সার হামিদ ওয়েবসাইট থেকেও উধাও কর্মকর্তার ছবি; স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন

১৬

মৌলভীবাজারে আসছেন প্রধানমন্ত্রী, সৌন্দর্যবর্ধনে ব্যাপক প্রস্তুতি

১৭

তীব্র গরমে লোডশেডিংয়ের যন্ত্রণা, স্বস্তি খুঁজে পাচ্ছে না লৌহজংবাসী

১৮

শেরপুরে কিশোরীদের কর্মসংস্থান, আয়বৃদ্ধিমূলক কর্মকাণ্ড ও টিকাদান প্রশিক্ষণ শেষে সনদ প্রদান

১৯

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ এর কল্যাণ সভা এবং অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত

২০

Design & Developed by: BD IT HOST