সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার দক্ষিণ বংশীকুন্ডা ইউনিয়নের চান্দালি পাড়া গ্রামে জমির পূর্ব বিরোধের জেরে অসহায় এক পরিবারের উপর হামলা, দোকান লুটপাট, বাড়িঘরের আসবাবপত্র ও একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। হামলায় বৃদ্ধা মা ও পুত্রবধূ গুরুতর আহত হয়েছেন।
গত ১৪ জুন, রবিবার বিকেলে চান্দালি পাড়া গ্রামের মো. আলী মিয়ার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীর স্ত্রী নিষ্পা বেগম ১৬ জুন মধ্যনগর থানায় মামলা দায়ের করেন। তিনিও হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, হামলার মূলহোতা সাদিকুল ও বজলু মিয়া। স্থানীয়দের অভিযোগ, তারা দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা ও সেবনের সঙ্গে জড়িত এবং এলাকায় বখাটেপনার জন্য পরিচিত। তাদের ভয়ে এলাকাবাসী আতঙ্কে থাকেন।
হামলায় আলী মিয়ার ৭৫ বছর বয়সী মা আশঙ্কাজনক অবস্থায় কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভুক্তভোগী আলী মিয়ার ছোট বোন মালা আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমরা খুব অসহায়, খুব গরিব। অভিযুক্তরা আমাকে অনেকদিন ধরে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করে আসছে। আমাদের কেউ নেই। আমার একটিমাত্র ভাই, আমরা চার বোন আর বৃদ্ধ মা। অভিযুক্তরা আমাকে বিভিন্নভাবে সমাজে কলঙ্কিত করে রাখে। আমি সবসময় তাদের ভয়ে আতঙ্কে থাকি।”
মালা আক্তারের ভাবি নিষ্পা আক্তার বলেন, “এলাকার কিছু বখাটে ছেলে মালা আক্তারকে সব সময় উত্যক্ত করে, খারাপ প্রস্তাব দেয়। এ কারণে তারা তাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকিও দিয়েছিল। এটাই হামলার মূল কারণ বলে আমরা মনে করি।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা অসহায়। দেশবাসী ও প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার চাই।”
স্থানীয়রা বলছেন, “এমন ঘটনা এলাকায় নতুন নয়। দোষীদের যেন অতি দ্রুত আইনের আওতায় আনা হয়। এই অসহায় পরিবার যেন ন্যায়বিচার পায়।”
এই বিষয়ে মামলার বিবাদীগণের কাছে জানতে চাইলে বোরহান উদ্দিনের বাবা হযরত আলী বলেন, “মারের ঘটনা সত্য। এই বিষয়টি নিয়ে আমিও মর্মাহত।”
মধ্যনগর থানার অফিসার ইনচার্জ এ কে এম শাহাবুদ্দিন শাহীন বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। মামলা এফআইআর হয়েছে, তদন্ত চলছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের কাজ চলমান রয়েছে।”
মামলার এজাহারে ১০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযুক্তরা হলেন: সাদিকুল, ইব্রাহিম বাপন, মো. বোরহান, মো. বজলু মিয়া, কালন মিয়া, খোকন মিয়া, হাকিম, মো. রাজ, এরশাদ ও সুলেমান মিয়া। এছাড়া আসমা, সপ্না, মাজেদা, মাজেদা খাতুন ও ফাতেমার নামও রয়েছে।
ঘটনার পর চান্দালি পাড়া গ্রামে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবার এখন ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তার অপেক্ষায় রয়েছে।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST