শুষ্ক মৌসুমে হঠাৎ ভাঙনের কবলে পড়েছে সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার যমুনা নদীর পশ্চিম তীর সংরক্ষণ এলাকা। উপজেলার পলাশপুর ঘাট এলাকায় অন্তত দুটি স্থানে নদীর তীর ধসে পড়ায় নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর তলদেশে গভীর গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় পানির স্রোতের চাপ বেড়ে গিয়ে এই ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পলাশপুর, মেঘাই, ঢেকুরিয়া ও ইকোপার্ক সংলগ্ন এলাকায় নদীর তীরের একাধিক অংশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে যমুনায় পানি বাড়তে শুরু করায় স্রোতের ধাক্কা সরাসরি পশ্চিম তীর সংরক্ষণ বাঁধে আঘাত হানছে। এরই মধ্যে শুক্রবার রাতে দুটি স্থানে বড় অংশ নদীতে ধসে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সরকারি ইজারা বহির্ভূত এলাকায় প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় ড্রেজার দিয়ে অবাধে বালু উত্তোলন চলছে। এতে নদীর তলদেশে বড় বড় খাদ তৈরি হচ্ছে, যা স্বাভাবিক পানিপ্রবাহকে অস্বাভাবিক করে তুলছে এবং তীর সংরক্ষণ ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দিচ্ছে। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
পলাশপুর গ্রামের বাসিন্দা মোমেনা খাতুন বলেন, নদীভাঙনে ইতোমধ্যে তাদের অধিকাংশ জমি বিলীন হয়ে গেছে। নতুন করে ভাঙন শুরু হওয়ায় বসতভিটা হারানোর শঙ্কা আরও বেড়েছে। একই এলাকার শান্ত জানান, বছরের পর বছর তার বাড়ির সামনে থেকে বালু উত্তোলন করা হয়েছে। কোনো নিয়ন্ত্রণ না থাকায় এখন পুরো এলাকা হুমকির মুখে পড়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালে কাজীপুরে যমুনার পশ্চিম তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়ে ২০১৪ সালে শেষ হয়। পাথরের ব্লক ও জিও ব্যাগ ব্যবহার করে তীর রক্ষা করা হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক ভাঙনে প্রকল্পের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় জরুরি ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, ভাঙন নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিনি জানান, বৈধতার বাইরে কেউ বালু উত্তোলন করলে তা বন্ধে নিয়মিত নজরদারি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে কাজীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, বাঁধ বা অবকাঠামোর এক কিলোমিটারের মধ্যে বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ইজারার বাইরে কোথাও বালু উত্তোলনের সুযোগ নেই। ইতোমধ্যে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযান চালানো হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, বর্ষা মৌসুমের আগেই যদি ভাঙন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা না যায়, তবে মেঘাই বাঁধ, ফসলি জমি ও বসতভিটাসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তাই দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে কঠোর নজরদারি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST