সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে নড়াইল জেলা জুড়ে রয়েছে প্রতিমা তৈরির শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা। জেলা শহরের লোহাগড়া ও কালিয়া উপজলায় বিভিন্ন পূজা মণ্ডপে দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমাশিল্পীরা। পূজা যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে কারিগরদের কর্মব্যস্ততা। জেলা শহরসহ তিন উপজেলার বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, খড়, কাঠ, সুতা ও মাটি দিয়ে নিপুণ হাতে প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে। কেউ কাঠে ও খড়ে খড়ের প্রলেপ বা ছাঁচ তৈরি করছেন, আবার কেউ মাটি দিয়ে ফুটিয়ে তুলছেন দেবী দুর্গার অবয়ব। প্রতিমার কাজ অনেক মণ্ডপে ইতোমধ্যেই কাটামো তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। এখন চলছে মাটি দেওয়ার শেষ ধাপের কাজ। পূজা ঘনিয়ে আসায় অনেক প্রতিমাশিল্পী নতুন করে প্রতিমার অর্ডার নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। কারিগরদের দাবি, এ বছর প্রতিমার চাহিদা গত বছরের তুলনায় বেড়েছে। তবে একই সাথে খড়, কাঠ, মাটি, রং ও অন্যান্য উপকরণের দামও বেড়েছে। সে তুলনায় বাড়েনি প্রতিমার দাম। ফলে পরিশ্রম অনুযায়ী আয় হচ্ছে না তাদের। লোহাগড়ার কুন্দশী পালপাড়ার প্রতিমাশিল্পী পরিমল পাল বলেন, “প্রতিমা তৈরির উপকরণগুলোর দাম ও চাহিদা দুটোই বেড়েছে। তবে প্রতিমার দাম বাড়েনি। অবস্থা চলতি বছর গত বছরের তুলনায় প্রতিমার চাহিদা বেশি।” আরেক প্রতিমাশিল্পী তপন পাল বলেন, “আগের মতো মানুষ মাটির তৈরি জিনিসপত্র ব্যবহার না করায় আমাদের প্রায় সারা বছরই অলস সময় কাটাতে হয়। দুর্গাপূজার সময় প্রতিমা তৈরি করে যে আয় হয়, তা দিয়ে কোনোভাবে সারা বছর সংসার চালাতে হয়। কিন্তু এবার প্রতিমা তৈরির উপকরণের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। আয়োজকরা প্রতিমার দাম না বাড়ানোয় আমাদের প্রত্যাশিত আয় হচ্ছে না।”
লোহাগড়া উপজেলার কচুবাড়িয়া এলাকার প্রতিমাশিল্পী বিষ্ণু কর্মকার বলেন, “প্রতিমা তৈরির সব উপকরণের দাম বেড়েছে। কিন্তু আমাদের মজুরি বাড়েনি। বছরে দুর্গাপূজার সময় যে আয় হয়, তা দিয়েই বছরের বাকি সময় চলতে হয়।” নড়াইল জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সভাপতি ও নড়াইল টাউন কালিবাড়ি মন্দির পরিচালনা পর্ষদের বর্তমান সভাপতি অশোক কুন্ডু বলেন, আগামী ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর পূজার মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। পাঁচ দিনব্যাপী এ উৎসব ২০ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে। তিনি জানান, এ বছর নড়াইল জেলায় পাঁচ শতাধিক পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে লোহাগড়া উপজেলায় ১৪৯টি এবং কালিয়া ও নড়াগাতী থানা এলাকায় ১৪৮টি পূজামণ্ডপ রয়েছে। ইতোমধ্যে পূজামণ্ডপের তালিকা প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। লোহাগড়া উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক গৌতম দেওয়ান বলেন, দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে আয়োজকদের তৎপরতা বেড়েছে। পূজা সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্ন করতে সংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হচ্ছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রত্যাশা, দেবীর আগমনে অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটিয়ে শুভ শক্তির উদয় হবে এবং বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে। নড়াইলের জেলা প্রশাসক ড. আবদুল ছালাম বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা সুষ্ঠু, সুন্দর ও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST