পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার ১৪৮ নং দক্ষিণ বিন্না কাইলান্তরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিশুদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বরাদ্দকৃত পুষ্টিকর দুধ চুরির এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ পেয়েছে। আস্ত কার্টন ভেঙে ৩০ প্যাকেট দুধ চুরির এই ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
বিবরণে জানা যায়, নিয়ম অনুযায়ী মাসের নির্দিষ্ট সময়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে এই দুধ সরবরাহ করা হয়। ঘটনার দিন মাস শেষে স্টকে থাকা দুধ বিতরণ করতে গিয়ে শিক্ষকরা দেখতে পান, একটি কার্টনের নিচের অংশ খালি এবং বেশ কিছু প্যাকেট উধাও। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে দুধ চুরির চাঞ্চল্যকর এই তথ্য বেরিয়ে আসে।
এই ঘটনার সাথে স্থানীয় বিন্না ইয়ংমেন্স ক্লাবের সাংস্কৃতিক সম্পাদক নাদিম মাহমুদ ও তার বন্ধু রাশেদ জড়িত বলে জোরালো অভিযোগ উঠেছে। পুরো ঘটনার সাক্ষী হিসেবে রয়েছে চারজন শিশু শিক্ষার্থী এবং এক অভিভাবক। অভিযুক্তদের এমন ন্যক্কারজনক কর্মকাণ্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “কত বড় কলিজা, স্কুল থেকে ছোট ছোট বাচ্চাদের দুধ চুরি করে খায়!” ৩০ প্যাকেটের এই বড় ধরনের ঘাটতির কারণে আজ মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) নির্ধারিত দিনে স্কুলের শিশুদের দুধ বিতরণ করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে মুঠোফোনে অভিযুক্ত নাদিম মাহমুদের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, গত ২৫ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) ওই এলাকায় নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা ছিল। সে সময় তারা ওই স্কুলে মেহমানদের জন্য ফল কাটার সময় দুধের প্যাকেটগুলো দেখতে পান এবং সেখান থেকে কেবল তিনটি প্যাকেট তাঁরা খেয়েছেন। তবে ৩০ প্যাকেট দুধ খাওয়া বা সঙ্গে করে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি তিনি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম জানান, “আজ সকালে দুধ বিতরণের পূর্বে কার্টন খুলতে গিয়ে দেখা যায় অনেকগুলো দুধের প্যাকেট নেই। বিষয়টি নিয়ে আমি উপজেলা শিক্ষা অফিসার স্যারকে সামনাসামনি বিস্তারিত জানাবো, তাই ফোনে কিছু বলিনি। বুধবার স্যারের সাথে কথা বলে তিনি যেভাবে নির্দেশনা দেবেন, আমি সেভাবেই পরবর্তী পদক্ষেপে এগোবো।”
এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. মঈনুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “বিষয়টি আমাকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। আমি হেডস্যারের কাছ থেকে বিস্তারিত জেনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST