মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ হলদিয়া (দেওয়ানকান্দি) গ্রামে চলাচলের রাস্তায় বালু ফেলাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সংঘাত, পাল্টা মামলা এবং পরবর্তীতে কতিপয় অনলাইন পোর্টালে একতরফা খবর প্রচারের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। একপক্ষের দায়ের করা শ্লীলতাহানি ও যৌন হয়রানির অভিযোগ পুলিশের তদন্তে সম্পূর্ণ ‘অসত্য’ প্রমাণিত হলেও অনলাইনে অপপ্রচার অব্যাহত রাখার অভিযোগে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন পুরো দেওয়ানকান্দি গ্রামের বাসিন্দারা।
এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৩ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টার দিকে দেওয়ানকান্দি গ্রামের চলাচলের রাস্তায় দীর্ঘদিনের বালু রাখা নিয়ে বিরোধের জেরে প্রথম হামলার ঘটনা ঘটে। ইমন দেওয়ান ও তাঁর বাবা ইয়াদ আলী দেওয়ান প্রাইভেটকারে যাওয়ার সময় রাস্তা থেকে বালু সরাতে বললে প্রতিবেশী স্বপন শেখ গালিগালাজ শুরু করেন। এর প্রতিবাদ করলে স্বপন শেখ, করিম শেখ, হাসান ফরাজীসহ অভিযুক্তরা কাঠের লাঠি ও গাছের ডাল দিয়ে তাঁদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। একপর্যায়ে স্বপন শেখ গামছা দিয়ে ইয়াদ আলী দেওয়ানের গলা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা চালান বলে অভিযোগ করা হয়।
হামলায় একটি প্রাইভেটকার ভাঙচুর করে প্রায় ৭০ হাজার টাকার ক্ষতিসাধনের পাশাপাশি নগদ ৫০ হাজার টাকা ও আড়াই লাখ টাকা মূল্যের দুটি আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে ইয়াদ আলী দেওয়ান, তাঁর ছেলে ইমন দেওয়ান এবং দেবর তৈয়ব আলী দেওয়ান গুরুতর আহত হন। তাঁদের প্রথমে লৌহজং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতালে (পঙ্গু হাসপাতাল) ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় ইয়াদ আলীর স্ত্রী রোজিনা বেগম (৫৮) বাদী হয়ে স্বপন শেখসহ ৭ জনের নাম উল্লেখ করে লৌহজং থানায় মামলা দায়ের করেন।
জানা যায়, দেওয়ান বাড়িতে এক ব্যক্তির মৃত্যুপরবর্তী কুল‘খানি’ (মিলাদ ও জিয়াফত) অনুষ্ঠানের বাজারের প্রস্তুতি চলাকালীন এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটলে স্থানীয় জনতা দায়িত্ববোধ থেকে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। উত্তেজিত এলাকাবাসী হামলাকারীদের বাড়িতে চড়াও হয় এবং তাদের বাড়ির সীমানা বেড়া এবং ঘরের বেরায় পিটানোর ঘটনা ঘটায়।
পরবর্তীতে এই ঘটনার জের ধরে স্বপন শেখের স্ত্রী সুমা বেগম (৪৮) গত ৭ সেপ্টেম্বর মুন্সীগঞ্জের বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে দেওয়ান পরিবারের সালাম দেওয়ান, আবু কালাম দেওয়ান, সুজন দেওয়ান, রাকিব দেওয়ান ও এরশাদ দেওয়ানের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১০/৩০ ধারায় শ্লীলতাহানি ও ঘরবাড়ি লুটপাটের অভিযোগে একটি পিটিশন মামলা (নং-১২৬/২০২৬) দায়ের করেন।
এদিকে সুমা আক্তারের নামেও মামলা থাকলে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেনি তার কোলে শিশু বাচ্চা থাকার কারণে। সুমা আক্তারকে তার বাবা মায়ের জিম্মায় শিশুটির জন্য গ্রেপ্তার করা হয়নি। এবং সিমা আক্তারের শিরু নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় সাক্ষী হিসেবে তার বাবা মা কে তদন্তকারী অফিসার জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা জানান এই ঘটনা সম্বন্ধে তারা কিছুই জানেনা। অথচ পুলিশ তার শিশু বাচ্চা থাকার কারণে তাকে তার বাবা মার জিম্মায় রেখে যান।
এদিকে আদালতের নির্দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন মামলাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে গত ১৯ সেপ্টেম্বর আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন লৌহজং থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অভিজিৎ পোদ্দার।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ঘটনাস্থল পরিদর্শন, বাদীর মানীত সাক্ষী এবং এলাকার নিরপেক্ষ সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদে আসামীগণের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি বা যৌন হয়রানির কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এমনকি টানাহেঁচড়ায় কাপড় ছেঁড়ার দাবি করা হলেও আলামত হিসেবে পুলিশকে কোনো ছেঁড়া কাপড় দেখাতে পারেননি বাদী।
তদন্তে আরও বলা হয়, মূলত রাস্তায় বালু রাখা নিয়েই ঝগড়ার সূত্রপাত। ঘটনাটি শ্লীলতাহানি নয়, বরং উভয়পক্ষের বিরোধের জেরে বেআইনি জনতাবদ্ধে বসতবাড়িতে প্রবেশ ও ঝগড়া-হুমকি প্রদানের বিষয় বিদ্যমান। ফলে দণ্ডবিধির (পেনাল কোড) ১৪৩/৪৪৭/৫০৬ ধারার অপরাধ প্রাথমিকভাবে সত্য প্রমাণিত হলেও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১০/৩০ ধারার কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।
এদিকে পুলিশের নিরপেক্ষ তদন্তে শ্লীলতাহানির মামলাটি অসত্য প্রমাণিত হওয়ার পরও সম্প্রতি কয়েকটি অনলাইন ভিত্তিক নিউজ পোর্টালে সুমা বেগমদের পক্ষে একতরফা ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ পরিবেশন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
গ্রামবাসীর দাবি, প্রকৃত সত্যকে আড়াল করে পুরো গ্রাম ও স্থানীয় প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতেই এই ধরনের একপেশে নিউজ করা হচ্ছে। এর প্রতিবাদে পুরো দেওয়ানকান্দি গ্রামের মানুষ একাট্টা হয়ে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
গ্রামের প্রবীণ ও নিরপেক্ষ বাসিন্দারা জানান, রাস্তায় বালু ফেলা এবং মূল হামলাটি চালিয়েছিল স্বপন শেখের পরিবার। পরবর্তীতে নিজেদের অপরাধ ঢাকতে ও প্রতিপক্ষকে দমন করতে তারা নারীদের ব্যবহার করে মিথ্যা শ্লীলতাহানির মামলা করে। এখন তদন্তে সত্য বেরিয়ে আসায় তারা মিডিয়ায় মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।
এ বিষয়ে লৌহজং থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ বোরহান উল ইসলাম জানানউভয় পক্ষের পার্শ্ববর্তী একটা লোক মারা যায় দেওয়ান পরিবারের, মৃত বাড়িতে বিভিন্ন জায়গা থেকে আত্মীয় স্বজন আসতেছিল তার প্রতিবেশি মহিলারা বালু এনে রাস্তা দখল করে রাখে, যার কারণে ওনাদের গাড়ি নিতে কষ্ট হচ্ছিল এই নিয়ে বাক-বিতণ্ডার এক পর্যায়ে ধাওয়া পাল্টা দেওয়া হয় গালিগালাজ হয় একটা সময় উভয় পক্ষই মারামারি হয়, যে বাড়ির লোক মারা গেছে ওই পক্ষের লোকজনের ইনজুর হয়, যার কারণে উনারা হাসপাতালে ভর্তি হয়ে মামলা দেয় লৌহজং থানা থেকে একটি জিয়ার মামলা হয়। তখন অপরপক্ষ যাদের বাসায় হুমকি-ধমকি দেওয়া হয় মারামারি পরিপ্রেক্ষিতে তারা কোর্টে গিয়ে আরেকটি মামলা আদায় করেন এতে করে উভয় পক্ষের মামলা নেওয়া হয়েছে এবং উভয় পক্ষের মামলার চার্জশিট দেওয়া হয়েছে যেই যেই ধারায় ব্যত্যয় ঘটেছে সেই সেই ধারায় আসামিদের নামে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST