সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নের বসিয়া খাউরী গ্রামে সরকারি এজমালি ভূমিতে বৈধ অনুমোদন ছাড়াই ডিজেলচালিত রাইস মিল স্থাপন ও পরিচালনা, পরিবেশ দূষণ এবং জনদুর্ভোগ সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সরেজমিন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর, সুনামগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বসিয়া খাউরী গ্রামের দিলাল মিয়া, আলাল ও দুলাল সহ বসিয়া খাউরী গ্রামের একাধিক ব্যক্তি।
অভিযোগে বলা হয়েছে, গ্রামের বসতবাড়ির নিকটবর্তী সরকারি এজমালি ভূমিতে বসিয়া খাউরী গ্রামের আসফাক আহমদ সুজন একটি ডিজেলচালিত রাইস মিল স্থাপন করে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন।
অভিযোগকারীরা জানান, রাইস মিলটি যে ভূমিতে স্থাপন করা হয়েছে, সেটি সরকারি এজমালি ভূমি।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, রাইস মিল চালু হওয়ার পর থেকে ডিজেলচালিত ইঞ্জিনের বিকট শব্দ, ইঞ্জিন থেকে নির্গত ধোঁয়া, ধুলাবালি, ধান ও চালের গুঁড়া এবং তুষ আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। এতে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি স্থানীয় জনসাধারণের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে অতিরিক্ত শব্দের কারণে শিশুদের পড়াশোনা, বয়স্ক ব্যক্তিদের বিশ্রাম ও ঘুম এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাপনে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
এছাড়া, রাইস মিল পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশগত ছাড়পত্র, ট্রেড লাইসেন্স ও অন্যান্য সরকারি অনুমোদন ছাড়াই চলছে রাইস মিলের কার্যক্রম। অভিযোগকারীরা রাইস মিলের শব্দদূষণের মাত্রা এবং ডিজেল ইঞ্জিনের ধোঁয়াসহ বায়ুদূষণের মাত্রা পরীক্ষা করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
একই সঙ্গে রাইস মিলের অতিরিক্ত শব্দ, ধোঁয়া ও ধুলাবালি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে এলাকাবাসীর স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ জীবনযাপন নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ এবং সরকারি সম্পত্তির সুরক্ষার স্বার্থে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে দ্রুত সরেজমিন তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
এর আগে গত ১ লা সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার)শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ দায়ের করেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
অভিযোগের বিষয়ে আশফাক আহমেদ সুজনকে ফোনে না পাওয়া গেলে তার রাইস মিল পরিচালনার ব্যবসায়িক পার্টনার শাহাব উদ্দিন বলেন, মিলটি বৈধ জায়গায় আমরা নতুন চালু করেছি। পরিবেশের ছাড়পত্রের বিষয়ে আমার জানা নেই তবে আমার ব্যবসায়ীক পার্টনারের কাছে থাকতে পারে।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কার্যালয়ের পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম জানান, অভিযোগের আলোকে শনিবার(২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST