নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার লক্ষ্মীপাশা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক কে এম রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোল্লা এ কে এম কামরুল ইসলাম বাদী হয়ে লোহাগড়া আমলি আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার নম্বর সি আর ৫৯১/২৬। মামলায় আগামী ৬ অক্টোবর সাবেক প্রধান শিক্ষক কে এম রেজাউল ইসলামকে আদালতে সশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, সাবেক প্রধান শিক্ষক কে এম রেজাউল ইসলাম দায়িত্ব পালনকালে বিদ্যালয়ের ১৭ শতক জমি অবৈধভাবে বিক্রি বা হস্তান্তর করে বিক্রয়লব্ধ ১৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়া বিদ্যালয়ের ভোকেশনাল ইউনিটের প্রায় ২০ লাখ টাকা মূল্যের ২০টি সেলাই মেশিন বিক্রি করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও করা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, বিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রের মধ্যে ক্যাশবুক, দলিলসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় রেকর্ড অনুপস্থিত রয়েছে। এসব নথিপত্র কীভাবে অনুপস্থিত হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ফলে বিদ্যালয়ের সম্পত্তি ও আর্থিক লেনদেনের প্রকৃত হিসাব যাচাই করতে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। মামলায় সূত্রে জানা যায়, সাবেক প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বকালীন সময়ের নথি পত্র, হিসাব-নিকাশ, সম্পত্তি ও সম্পদের বিষয়ে বিভিন্ন অসঙ্গতি পরিলক্ষিত হওয়ার পর বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির অনুমোদনক্রমে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি বিদ্যালয়ের নথিপত্র ও সংশ্লিষ্ট বিষয় পর্যালোচনা করে ১৭ শতক জমি হস্তান্তর বা বিক্রয়ের বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে। পরে বিদ্যালয়ের স্বার্থ ও সম্পত্তি সংরক্ষণের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ফৌজদারি মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মামলার বাদী ও বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোল্লা এ কে এম কামরুল ইসলাম বলেন, “এলাকার সুধীজন, তদন্ত কমিটির অনুমোদন এবং বিদ্যালয়ের সব শিক্ষক ঐক্যবদ্ধভাবে আলোচনা করে বিদ্যালয়ের স্বার্থ, সম্পত্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক সম্পদ সংরক্ষণের জন্য আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বিদ্যালয়ের সম্পত্তি ও অর্থের বিষয়ে প্রকৃত ঘটনা আদালতের বিচারের মাধ্যমে বেরিয়ে আসুক—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।” তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয়ের ১৭ শতক জমি বিক্রি, বিক্রয়লব্ধ ১৮ লাখ টাকার হিসাব, সেলাই মেশিন এবং গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রের অনুপস্থিতির যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো প্রকৃত সত্য আইনগতভাবেই নির্ধারিত হবে। সংশ্লিষ্টরা জানান, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি ও অর্থ শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম এবং প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। তাই কোনো সম্পত্তি বা অর্থের বিষয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তা আইনগতভাবে নিষ্পত্তি হওয়া জরুরি। তাদের দাবি, বিদ্যালয়ের হারানো সম্পদ, নথিপত্র ও অর্থের প্রকৃত হিসাব বের করে বিদ্যালয়ের কোনো ক্ষতি হয়ে থাকলে তা উদ্ধারে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, মামলার তদন্তে জমি বিক্রয়ের বৈধতা, বিক্রয়লব্ধ অর্থের গতিপথ, সেলাই মেশিনের বর্তমান অবস্থান এবং গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র কীভাবে অনুপস্থিত হয়েছে—এসব বিষয় স্পষ্ট হবে। বিদ্যালয়ের সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন সিকদার মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST