টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষা মৌসুমি নিম্নচাপের প্রভাবে টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলা ও পৌরসভা বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে বাড়িঘর, কাঁচা সড়ক, কৃষিজমি, বীজতলা ও মাছের ঘের পানিতে তলিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কোথাও কোথাও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় জনদুর্ভোগ
চরম আকার ধারণ করেছে । সরেজমিনে দেখা গেছে, পটিয়া পৌরসভার মধ্যে কমবেশি সব এলাকায় নিম্ন অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে পুকুর জলাশয় ডুবে গিয়ে কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে পটিয়া পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড আদু তালুকদার বাড়ি এলাকায় নিম্ন অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে এবং বেশ কয়েকটি পুকুর ডুবে গিয়ে কোটি টাকার ক্ষতি হয়। এছাড়াও পটিয়া পৌরসভা ২ নম্বর ওয়ার্ড আবাসিক এলাকাসহ নিম্ন অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে, এতে সাধারণ মানুষ চলাচলে চরম দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। বিষয়টি বিএনপি নেতা তৌহিদুল ইসলাম খোঁজ খবর রাখছেন, একইভাবে পৌরসভার ৩, ৯, ৭,৬,৪, ৮ নম্বর ওয়ার্ডে কয়েকদিন ভারী বর্ষনে পুকুর, বাড়িঘর, রাস্তাঘাট ডুবে যায়। ফলে বাড়িঘর পুকুর ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। এছাড়াও উপজেলার ছনহরা, ভাটিখাইন, কচুয়াই, কেলিশহর, খরনা,জঙ্গলখাইন, কুসুমপুরা, জিরি, কোলাগাঁও, হাবিলাসদ্বীপ, বড়লিয়া, আশিয়া, কাশিয়াইশ, শোভনদন্ডী ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে করে গ্রামীন সড়কে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, কয়েকদিনের টানা বর্ষণে উপজেলার একাধিক ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। অনেক গ্রামের কাঁচা সড়ক কাদায় চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও রাস্তার অংশ ভেঙে যাওয়ায় জরুরি চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে। বাড়ির উঠান, বসতঘর ও কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয়রা।সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে রয়েছেন স্কুলগামী শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষক ও দিনমজুররা।
জঙ্গলখাইন ইউনিয়ন নাইখাইন গ্রামের
স্থানীয় ব্যাবসায়ী ও কৃষক মো. দিদারুল আলম জানান, বীজতলা ও নতুন আবাদি জমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় মৌসুমি চাষাবাদ ক্ষতির মুখে পড়েছে। অন্যদিকে, পুকুর ও জলাশয়ের মাছ ভেসে যাওয়ায় ক্ষুদ্র মৎস্যচাষিরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্যমতে এক রাতের বৃষ্টিতেই কয়েক মাসের বিনিয়োগ পানিতে ভেসে গেছে। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় পানিবন্দি পরিবারগুলো রান্না, নিরাপত্তা ও দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে।
পটিয়া উপজেলার সদ্য নির্মিত দ্যাইয়াপাড়া ব্রিজের সংযোগ সড়কের একাংশ ভেঙে পড়েছে, স্থানীয় জনসাধারণের চলাচলে চরম দুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে। দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক সাবেক কুসুমপুরা ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল করিম নেছার জানান,অতি ভারী বৃষ্টির কারণে পশ্চিম পটিয়ার বিভিন্ন ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা ভয়াবহ আকার নিয়েছে। মানুষের দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের কোনো বিকল্প নেই। এজন্য ভেল্লাপাড়া স্লুইস গেট নিয়মিত খুলে রেখে পানি চলাচল স্বাভাবিক করা
জরুরি। ছনহরা ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রশিদ দৌলতি জানান, ছনহরা ইউনিয়ন রাস্তাঘাট, কৃষিজমি, বীজতলা, মাছের ঘের ও বসতবাড়ির যে ক্ষতি হয়েছে, তা দ্রুত তালিকাভুক্ত করে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। খরনা ইউনিয়ন বিএনপি নেতা আবদুল করিম জানান, তার এলাকায় বাড়িঘর রাস্তাঘাট, পুকুর ডুবে গিয়ে কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এবিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এই সংকট কাটিয়ে ওঠা কঠিন হবে বলে মনে করেন ভুক্তভোগীরা। পটিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারহানুর রহমান এবিষয়ে জানান,পটিয়া উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিয়নগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, সদস্য ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সার্বিক অবস্থা মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসন তৎপর রয়েছে। চট্টগ্রাম
(১২ পটিয়া) আসনের এমপি আলহাজ্ব এনামুল হক এনাম এবিষয়ে সজাগ রয়েছে যেকোনো পরিবেশ পরিস্থিতি মোকাবেলা জন্য দলীয় নেতা কর্মী সমর্থকদের সাধারণ মানুষের পাশে দাড়াতে নির্দেশ দিয়েছেন বলে সুএে জানা যায়।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST