রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ পদ্মার মোড় এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক ঘেঁষে গড়ে উঠেছে এক বিশাল ও স্থায়ী ময়লার ভাগাড়। পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে প্রতিদিন শত শত টন বর্জ্য এনে উন্মুক্ত স্থানে ফেলার কারণে একদিকে যেমন এলাকার পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে, অন্যদিকে চরম দুর্ভোগ ও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে দিন কাটাচ্ছেন সাধারণ মানুষ, পথচারী এবং পরিবহন চালকরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোয়ালন্দ পৌরসভার স্থায়ী কোনো ডাম্পিং স্টেশন বা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্টের কাজ সময়মতো শেষ না হওয়ার কারণে বাধ্য হয়ে পৌর কর্তৃপক্ষ এই ব্যস্ততম মহাসড়কের পাশেই ময়লা ফেলছে। সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, প্রতিদিন রাতে ও ভোরে পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা বিভিন্ন এলাকা থেকে ভ্যান বা ট্রাকে করে ময়লা এনে সরাসরি সড়কের পাশে ফেলছেন। ফলে দীর্ঘ এলাকাজুড়ে ময়লার পাহাড় জমে এক ভয়াবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। এর ঠিক পাশেই রয়েছে গোয়ালন্দ বিদ্যুৎ অফিসসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, যেখানে প্রতিদিন শত শত মানুষের যাতায়াত রয়েছে।
খোলা আকাশের নিচে ফেলা এসব পচা-আবর্জনা থেকে প্রতিনিয়ত তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, অফিসগামী মানুষ এবং দূরপাল্কার যাত্রীদের নাক-মুখ চেপে ও রুমাল দিয়ে ঢেকে চলাচল করতে হচ্ছে।স্থানীয় চিকিৎসকদের মতে, এই বর্জ্য থেকে ছড়ানো দুর্গন্ধ ও ক্ষতিকারক গ্যাসে এলাকায় শ্বাসকষ্ট, অ্যাজমা, ব্রঙ্কাইটিস এবং মারাত্মক এলার্জিজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব দিন দিন বাড়ছে। এছাড়া ময়লার স্তূপে ভনভন করা মশা-মাছির উপদ্রব এবং ময়লা পোড়ানোর বিষাক্ত ধোঁয়ায় চারপাশের বাতাস বিষাক্ত হয়ে উঠেছে। পথচারী ও চালকদের অনেকেরই এই এলাকায় পৌঁছালে বমি ভাব দেখা দেয়।
ময়লার এই বিশাল ভাগাড়টির পাশেই রয়েছে মরা পদ্মা নদী। উন্মুক্ত এসব বর্জ্য গড়িয়ে ও ভেসে সরাসরি গিয়ে মিশছে নদীর পানিতে। স্থানীয় লোকজন বাধ্য হয়ে এই নদীর পানি দিয়েই গোসল, জামাকাপড় ধোয়া এবং গবাদিপশুর গোসলের মতো দৈনন্দিন কাজ করছেন, যার ফলে মারাত্মক স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।
ময়লার স্তূপ থেকে খাবার সংগ্রহ করতে আসা কুকুরের দল প্রায়ই সড়কের মাঝখানে টানাটানি করে। এর ফলে হঠাৎ করে মোটরসাইকেল, বাইসাইকেল বা অটোরিকশার চালকরা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে রাতের বেলা দ্রুতগতির যানবাহনের জন্য এই স্থানটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এ বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলার নবযোগদানকৃত উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক সাইফুল হুদা জানান, “বিষয়টি আমি সবেমাত্র অবগত হয়েছি এবং এটি অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ একটি সমস্যা। নির্ধারিত ডাম্পিং স্টেশনের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী বিভাগের সাথে সমন্বয় করে খুব শীঘ্রই ময়লা-আবর্জনা স্থায়ী ডাম্পিং স্টেশনে স্থানান্তরের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ রক্ষার্থে দ্রুত এই মহাসড়কঘেঁষা ময়লার ভাগাড়টি অপসারণ করে স্থায়ী বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী ও সচেতন মহল।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST