পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা চরম প্রশাসনিক ও একাডেমিক সংকটের মুখে পড়েছে। উপজেলার মোট ৪৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোনো স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই। দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকের পদগুলো শূন্য থাকায় সহকারী শিক্ষকদের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব। এর ফলে একদিকে যেমন প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে, অন্যদিকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে নিয়মিত পাঠদান ও শিক্ষা কার্যক্রম।
অভিভাবক ও সচেতন মহলের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে। সমকক্ষ পদমর্যাদার হওয়ার কারণে অনেক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের নির্দেশনা যথাযথভাবে মানতে চান না। এর জেরে কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের মধ্যে গ্রুপিং বা বিভেদ সৃষ্টি হয়েছে, যা সার্বিক পরিবেশকে আরও জটিল করে তুলছে।
শিক্ষক বণ্টনে ভারসাম্যহীনতা ও কোচিং বাণিজ্য
উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে শিক্ষক বণ্টনেও মারাত্মক ভারসাম্যহীনতার অভিযোগ রয়েছে। কোথাও প্রয়োজনের তুলনায় শিক্ষক বেশি থাকলেও আবার কিছু প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক সংকট প্রকট। এর ফলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর কাঙ্ক্ষিত অনুপাত বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না।
পাশাপাশি, কয়েকটি বিদ্যালয়ে সরকারি সময়সূচি যথাযথভাবে অনুসরণ না করার অভিযোগ উঠেছে। কিছু শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের চেয়ে ব্যক্তিগত প্রাইভেট ও কোচিং বাণিজ্যে বেশি মনোযোগী হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর। অনেক শিক্ষার্থী প্রাথমিক শিক্ষার গণ্ডি পেরিয়েও সাবলীলভাবে রিডিং পড়তে পারছে না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা।
শিক্ষার মান নিয়ে অসন্তোষ বাড়ায় অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সরিয়ে নূরানী বা কওমি মাদ্রাসায় ভর্তি করাচ্ছেন। এতে সরকারি বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী ধরে রাখা নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উপজেলার কয়েকটি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে। এর মধ্যে ২৫ জনের কম শিক্ষার্থী রয়েছে এমন বিদ্যালয়ও রয়েছে। বিশেষ করে, সয়না রঘুনাথপুর ইউনিয়নের জব্দকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাত্র ৬ জন শিক্ষার্থী রয়েছে, অথচ সেখানে কর্মরত রয়েছেন ৪ জন শিক্ষক।
এ বিষয়ে কাউখালী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ওয়াহিদুর রহমান বলেন, “অধিকাংশ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক না থাকায় প্রশাসনিক পরিচালনায় সমস্যা হচ্ছে। ভারপ্রাপ্ত ও সহকারী শিক্ষকরা একই পদের হওয়ায় অনেকে নির্দেশ মানতে চান না। তবে বিদ্যালয়গুলোর কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত রুটিন অনুযায়ী তদারকি করা হচ্ছে। স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ পেলে এই সংকটের অবসান ঘটবে।”
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোল্লা মোঃ বখতিয়ার রহমান জানান, “প্রধান শিক্ষক সংকটের বিষয়টি কর্তৃপক্ষ অবগত রয়েছে। বর্তমানে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে দ্রুতই শিক্ষকসংক্রান্ত সব সংকটের সমাধান হবে এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমে গতি ফিরবে।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST