চন্দ্র প্রসাদ ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার আকাশ আজ যেন একটু বেশি নীরব, বাতাসে ভাসছে এক অদৃশ্য শোকের ভার। প্রিয় শিক্ষক মোঃ কামরুল আর নেই। দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে ক্যান্সারজনিত জটিল রোগের সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে তিনি হার মানলেন জীবনের নির্মম বাস্তবতার কাছে।
অসুস্থতার শুরু থেকেই ধীরে ধীরে নিভে আসছিল তার প্রাণের প্রদীপ। এক সময় যে মানুষটি শ্রেণিকক্ষে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিতেন, শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন দেখাতে শিখাতেন, তিনিই পরিণত হন শয্যাশায়ী এক নিঃশব্দ যোদ্ধায়। দিন গড়িয়েছে, রাত পেরিয়েছে— আর তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে অসুস্থতার গভীরতা।
একপর্যায়ে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে তার ছাত্র-ছাত্রী ও স্থানীয় সচেতন মানুষ এগিয়ে আসেন। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় উন্নত চিকিৎসার আশায় তাকে রাজধানী ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানে কিছুদিন চিকিৎসা চললেও অর্থাভাবে সেই পথ হয়ে ওঠে অনিশ্চিত ও সংকীর্ণ। চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করতে না পেরে থমকে যায় সুস্থতার স্বপ্ন।
শেষ আশ্রয় হিসেবে বেছে নেওয়া হয় হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা—যেন ডুবন্ত মানুষ খড়কুটো আঁকড়ে ধরার মতো এক মরিয়া চেষ্টা। কিন্তু নিয়তির অমোঘ বিধানকে আর বদলানো যায়নি। জীবনের সমস্ত আকুতি, প্রার্থনা ও ভালোবাসাকে পেছনে ফেলে তিনি পাড়ি জমালেন অনন্তের পথে।
তার প্রস্থান যেন শুধু একটি প্রাণের নিভে যাওয়া নয়, বরং একটি আলোকবর্তিকার নিঃশেষ হয়ে যাওয়া। একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক হিসেবে তিনি ছিলেন শিক্ষার্থীদের কাছে প্রেরণার উৎস, নৈতিকতার দিশারী এবং মানবিকতার এক উজ্জ্বল প্রতীক। তার কণ্ঠে ছিল মমতার সুর, আচরণে ছিল সৌজন্যের দীপ্তি, আর শিক্ষাদানে ছিল নিষ্ঠার অনন্য দৃষ্টান্ত।
এই অকাল প্রয়াণে চন্দ্র প্রসাদ ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। সহকর্মীদের চোখে অশ্রু, শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে বেদনার ঢেউ, আর এলাকাবাসীর মাঝে এক অপূরণীয় শূন্যতার অনুভব—সব মিলিয়ে যেন থমকে গেছে এক পরিচিত সময়।
মরহুমের জানাজার নামাজ আজ আছরের নামাজের পর মাদ্রাসার মাঠ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে। এতে সর্বস্তরের মানুষকে অংশগ্রহণের জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে, যেন সবাই মিলে শেষবারের মতো প্রিয় মানুষটিকে বিদায় জানাতে পারে।
জীবন যে কতটা ক্ষণস্থায়ী, কতটা অনিশ্চিত—শিক্ষক কামরুল তার নিঃশব্দ বিদায়ের মাধ্যমে সেই সত্যটিই যেন আবার স্মরণ করিয়ে দিলেন। তিনি চলে গেছেন, কিন্তু তার রেখে যাওয়া আদর্শ, শিক্ষা ও মানবিকতার বাণী বেঁচে থাকবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে, শিক্ষার্থীদের হৃদয়ের গভীরে।
প্রিয় এই মানুষটির স্মৃতি কখনো ম্লান হবে না—বরং সময়ের প্রবাহে তা হয়ে উঠবে আরও উজ্জ্বল, আরও অনুপ্রেরণাময়।
আল্লাহ মরহুমকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করুন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার, সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের এই অপূরণীয় ক্ষতি সহ্য করার শক্তি দিন— আমিন।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST