নেত্রকোণা সদর উপজেলার মৌগাতি ইউনিয়নের চুচুয়া গ্রামে দুই স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্ত ও যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করায় এক সংগ্রামী মা জেসমিন বেগমকে (৩৮) নৃশংসভাবে মারধর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বখাটেদের অব্যাহত অত্যাচার, হামলা ও প্রাণনাশের হুমকির মুখে এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে পরিবারটি। বর্তমানে গুরুতর আহত অবস্থায় জেসমিন বেগম ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভুক্তভোগী জেসমিন বেগম শাড়ি ও কাপড় বিক্রির মাধ্যমে সংসার চালান। তার স্বামী সংসারে খোঁজখবর না রাখায় দুই মেয়েকে নিয়ে তিনি নিজ বাড়িতেই থাকেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিবেশী মৃত আব্দুর রহিমের ছেলে মো. কুদ্দুস মিয়া (৩২), মো. রবিন মিয়া (২০) এবং তাদের আত্মীয় মিনা আক্তার (৩৬) দীর্ঘদিন ধরে জেসমিন বেগমের স্কুলপড়ুয়া দুই মেয়েকে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার পথে নানাভাবে উত্ত্যক্ত ও কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল।এসব অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় বখাটেরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। তারা বাড়ির চালে ঢিল মারা, পানির টিউবওয়েলের যন্ত্রাংশ খুলে নেওয়া এবং নেশাগ্রস্ত অবস্থায় জেসমিন বেগমের ঘরে তালা মেরে অবরুদ্ধ করে রাখার মতো অমানবিক কাজ শুরু করে। সর্বশেষ গত ৭ জুলাই ২০২৬ তারিখে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করার অপরাধে বখাটেরা জেসমিন বেগমের ওপর চড়াও হয়। ভুক্তভোগীর ভাই আলাউদ্দিন জানান, রবিন ও কুদ্দুস বাঁশ ও ইট দিয়ে জেসমিন বেগমের ওপর নৃশংস হামলা চালায়। বাঁশের আঘাতে তার নাক মারাত্মকভাবে ফেটে যায় এবং ইটের আঘাতে তিনি রক্তাক্ত জখম হন। বৃষ্টির মধ্যে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে নেত্রকোণা সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। জানা গেছে, জেসমিন বেগমের নাক ও চোখ দিয়ে এখনো রক্তক্ষরণ হচ্ছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, এর আগেও একাধিকবার থানায় লিখিত অভিযোগ ও সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। ভাই আলাউদ্দিন বলেন, “ঘটনার সময় ৯৯৯-এ কল করে পুলিশ ডাকলেও তারা এসে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। উল্টো পুলিশের উপস্থিতিতেও অভিযুক্তরা হুমকি দিয়ে গেছে।”
এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘বাংলাদেশ নাগরিক পার্টি’র কেন্দ্রীয় সদস্য ফাহিম রহমানের ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। সেখানে দেখা যায়, অভিযুক্তরা লাঠি হাতে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করছে এবং পুলিশকেও বকাবকি করছে। এ বিষয়ে নেত্রকোণা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানিয়েছেন, তারা অভিযোগ হাতে পেয়েছেন। ঘটনার সত্যতা যাচাই করে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন তিনি।এদিকে হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে জেসমিন বেগম ও তার পরিবার প্রশাসনের কাছে জীবনের নিরাপত্তা এবং অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। জেসমিন বেগমের আর্তনাদ, “আমরা শুধু স্বাভাবিকভাবে বাঁচতে চাই। আমার দুই মেয়ে তাদের পড়ার টেবিলে ফিরে যেতে চায়।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST