‘আল্লাহর কাছে বিচার দিলাম…’ ১১ কাঠা জমির লাউ খেত নিমিষেই শেষ, নিঃস্ব বৃদ্ধ কৃষকের কান্না
মহিউদ্দিন নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি,
“তিন মাস ধরে তিল তিল করে গাছগুলো বড় করছি। ভাবছিলাম লাউ বিক্রি করে পোলাপান নিয়া দু’বেলা ডাল-ভাত খাইয়া বাঁচুম। কিন্তু কে বা কারা আমার সব শেষ কইরা দিল! আমি কার কি ক্ষতি করছিলাম? আল্লাহর দরবারে বিচার দেওয়া ছাড়া আমার আর কিচ্ছু করার নাই…।” কথাগুলো বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন ৬৫ বছরের বৃদ্ধ কৃষক মোশাররফ । বয়সের ভারে ন্যুব্জ আর অভাবের তাড়নায় ক্লান্ত এই মানুষটির চোখের জল এখন এলাকার বিবেকবান মানুষের হৃদয়েও রক্তক্ষরণ ঘটাচ্ছে। নেত্রকোনার এক জনপদে ঘটে যাওয়া এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি স্থানীয়দের গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। ভুক্তভোগী মোশাররফ, রায় দুম রুহী গ্রামের মিয়া হোসেনের ছেলে এবং নেত্রকোনা সদর ৪ নং সিংহের বাংলা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। হতদরিদ্র এই মানুষটির নিজের এক টুকরো জমিও নেই। অন্যের করুণা আর নিজের হাড়ভাঙা পরিশ্রমে কোনোমতে সংসার চলে তার। অন্যের জমি বর্গা নিয়ে এবার ১১ কাঠা জমিতে করেছিলেন দেশি লাউয়ের চাষ। দিনরাত এক করে টানা তিন মাস ধরে খেতের পরিচর্যা করেছিলেন তিনি। গাছে গাছে যখন লাউ ধরতে শুরু করেছে এবং সপ্নগুলো একটু একটু করে ডালপালা মেলছিল, ঠিক তখনই নেমে আসে এই নির্মম আঘাত। রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা তার সেই সবুজ খেতের সমস্ত গাছ ও ফসল পরিকল্পিতভাবে নষ্ট করে দেয়। সকালে ঘুম থেকে উঠে নিজের চোখের সামনে ফসলের এমন সর্বনাশ দেখে মূর্ছা যান বৃদ্ধ মোশাররফ।
খবর নিয়ে জানা যায়, বৃদ্ধ মোশাররফ, তার স্ত্রী এবং পাঁচ ছেলেসহ মোট সাত সদস্যের সংসার। এই লাউ খেতই ছিল তাদের একমাত্র স্বপ্ন ও বেঁচে থাকার বড় ভরসা। কিন্তু চরম শত্রুতার শিকার হয়ে এখন তিনি ও তার পরিবার পুরোপুরি দিশেহারা। বয়সের শেষ প্রান্তে এসে এমন নিষ্ঠুর আঘাত পুরো পরিবারটিকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
এলাকার সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহল এই অমানবিক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। কে বা কারা এমন হিংস্র মানসিকতা নিয়ে একজন হতদরিদ্র কৃষকের পেটে লাথি মারল, তা ভেবে কুলকিনারা পাচ্ছে না কেউ।
সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়া বৃদ্ধ মোশাররফ ও তার পরিবারকে বাঁচাতে এবং এই নির্মম ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সেই সঙ্গে, সরকারের সংশ্লিষ্ট মহল ও হৃদয়বান মানুষের কাছে হতদরিদ্র এই কৃষকের পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর এবং দ্রুত ক্ষতিপূরণের আকুল আবেদন জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST