অতিবৃষ্টিতে নেছারাবাদ উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের রাজাবাড়ী থেকে জিলবাড়ী পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির বিভিন্ন অংশ খালের গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। অন্তত পাঁচটি গ্রামের মানুষের যোগাযোগের এ গুরুপ্তপূর্ন সড়কটি ভেঙে পড়ায় সড়কে অটোরিকশা, ভ্যানসহ সব ধরনের হালকা যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। খাল পাড়ে সড়ক হওয়ার কারনে সড়কের ভাঙন রোধে কোন ব্যবস্থা না থাকায় তা অব্যাহত রয়েছে।
এতেকরে বিন্না, রাজাবাড়ী, জিলবাড়ী, উড়িবুনিয়া, লেবুবাড়িসহ অন্তত পাঁচটি গ্রামের হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ, রোগী ও কর্মজীবী মানুষের দুর্ভোগ সীমাহীন আকারে ধারন করেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, রাজাবাড়ির মহিউদ্দিন চেয়ারম্যানের বাড়ির সামনের অংশ থেকে বিন্না বাজার হয়ে জিলবাড়ী পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় ধরনের ধস নেমেছে। দীর্ঘ কয়েক বছরের খালভাঙনে সড়কের বড় অংশ আগেই বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে ওই সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় স্থানীয়রা ভাঙা অংশে অস্থায়ীভাবে কাঠের তক্তা ও ছোট সাঁকো বসিয়ে কোনোমতে মোটরসাইকেল চলাচলের ব্যবস্থা করেছেন। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ওই সরু পথ দিয়ে চলাচল করছেন হাজারো যাত্রী।
সড়কটি এত গুরুত্বপূর্ণ যে, এখান থেকে পাশ্ববর্তী উপজেলা নাজিরপুরের তিনটি গ্রামের মানুষ নেছারাবাদের ইন্দের হাট মিয়ার হাট বন্দরে যাতায়াত করতে হয়। সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে দূরদূরান্তের মানুষসহ স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি অসুস্থ রোগী ও বয়স্ক ব্যক্তিদের উপজেলা সদরে পৌঁছাতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে, “এক কথায় প্রায় অসম্ভব”।
সরজমিনে দেখা যায়- সড়কের পাশে এই রাস্তা না টেকার কারণ, রাস্তা সংলগ্ন গভীর বড় খাল। এই খাল থেকে প্রতিদিন শতাধীক ছোট বড় ট্রলার যাতায়াত করে। ট্রলার গুলোর গতি এতো বেশি থাকে যে, ডলারের পানির ঢেউয়ে রাস্তার পাশ ধুয়ে যায়। যার ফলে খালপাড় ভাঙ্গন রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না এবং খালের পাড়ে রাস্তা থাকায় স্বাভাবিক কারণেই আস্তে আস্তে রাস্তাগুলো বিলীন হয়ে যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, সমস্যা সমাধানের পথ পারে- শুকনার মৌসুমে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে খাল থেকে নিরাপদ দূরত্বে রাস্তার ডিজাইন করা এবং তা স্হাপন করা। তা না হলে কোনভাবেই এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। খালে যেমন ট্রলার চলাচল রোধ করা সম্ভব নয়, আর ট্রলার চলল করলে খাল ভাঙ্গন রোধ করা সম্ভব নয়; এটাই হচ্ছে কঠিন বাস্তবতা।
অতএব, সরকারের উচিৎ- পানি উন্নয়ন বোর্ড, সড়ক ও যোগাযোগ, ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয় সহ যে সকল মন্ত্রণালয় বা অধিদপ্তরের সমন্বয়ের প্রয়োজন তা বিবেচনা করে একটি বাস্তব ভিত্তিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করা। সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায় করতে পারলে ইউনিয়নটিকে উন্নত যোগাযোগ নেটওয়ার্কের আওতায় আনা সম্ভব হবে।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST