বরগুনার আমতলী উপজেলায় দুই সন্তানের জননী সুপ্রিয়া হালদার (৩২) নামে এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী অজয় হাওলাদার (৩৫) ও তার বোন রমাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাত ৯টার দিকে উপজেলার কুকুয়া ইউনিয়নের হরিমৃত্যুঞ্জয় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত সুপ্রিয়া ১১ বছর ও ৯ মাস বয়সী দুই সন্তানের জননী।
পুলিশ ও নিহতের স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক কলহ ও পরকীয়াজনিত বিরোধকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে তাদের পরিবারে অশান্তি চলছিল। এরই জেরে বৃহস্পতিবার রাতে সুপ্রিয়াকে নির্যাতনের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন স্বজনরা। ঘটনার পর অভিযুক্তরা মরদেহ আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রেখে পালিয়ে যায়।
খবর পেয়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় নিহতের মা দীপালি রানী বাদী হয়ে আমতলী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় স্বামী অজয় হাওলাদারকে প্রধান আসামি করে শাশুড়ি, দেবর, দেবরের স্ত্রী এবং তিন ননদসহ মোট সাতজনকে আসামি করা হয়েছে।
নিহতের মা দীপালি রানী অভিযোগ করেন, পারিবারিক বিরোধের জেরে তার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
নিহতের দাদা প্রফুল্ল কুমার রায় জানান, ঘটনার প্রায় এক ঘণ্টা আগে সুপ্রিয়া তাকে ফোন করে কান্নাজড়িত কণ্ঠে নির্যাতনের কথা জানিয়েছিলেন। পরে হাসপাতাল থেকে মৃত্যুর খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ দেখতে পান। তবে অভিযুক্তদের কাউকে হাসপাতালে পাওয়া যায়নি।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় প্রধান আসামি অজয় হাওলাদার ও তার বোন রমাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রমাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং অজয়কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST