“আমার দুই মাসের মেয়েটাকে বাবার কোলে দিতে পারি নাই। মেয়ে যখন বড় হয়ে বলবে— আমার আব্বু কই? আমি তখন ওকে কী জবাব দেব? কীভাবে বলব তোর আব্বুকে ওরা মেরে ফেলেছে?”— বুকে দুই মাসের দুগ্ধপোষ্য সন্তানকে জড়িয়ে ধরে এভাবেই অঝোরে কাঁদছিলেন নিহত আলিনুর ফকিরের স্ত্রী কামরুন্নাহার সুমি।
পাওনা টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় নির্মাণ শ্রমিক মো. আলিনুর ফকিরকে (৩০) নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় জড়িত সব আসামির গ্রেফতার ও সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে এলাকা। বুধবার (২২ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টায় কুমারডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে এক বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধন শেষে একটি প্রতিবাদ মিছিল বের হয়ে কুমারডাঙ্গা-রাধানগর সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনারায় একই স্থানে এসে শেষ হয়। এতে নিহতের স্বজনসহ সর্বস্তরের শত শত এলাকাবাসী অংশ নেন।
মানববন্ধনে নিহত আলিনুরের মা সেলিনা বেগম বুক চাপড়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমি মরব, আমার বাবা আমাকে মাটি দেবে, কাঁন্দবে, দোয়া করবে। কিন্তু আজকে এরা আমার বুক খালি করে দিয়ে গেছে। ভাত নিয়ে বসে ছিলাম বাবার জন্য, ওরা বাবারে ভাতটাও খেতে দিল না।”
বক্তব্যকালে এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, গত শনিবার (১৮ জুলাই) রাতে পাওনা টাকা দেওয়ার নাম করে ডেকে নিয়ে আলিনুরকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর পুলিশ মাত্র দুইজনকে গ্রেফতার করলেও বাকি আসামিরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে সব আসামির দ্রুত গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবি জানান তারা।
মানববন্ধনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নিহতের বোন শুকিয়া বেগম, স্থানীয় কাজি আল-হেলাল, রকেট শেখ, কায়েম শেখ, রিজাবুল শেখ ও মো. আরোজ আলী।
এ বিষয়ে লোহাগড়া থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় জানান, আলিনুর হত্যা মামলার প্রধান দুই আসামিকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৮ জুলাই রাত ১০টার দিকে লোহাগড়ার কুমারডাঙ্গা গ্রামের প্রাইমারি স্কুলের পাশে পাওনা টাকা দেওয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে রাজিব শেখসহ তার সহযোগীরা ধারালো ছুরি দিয়ে নির্মাণ শ্রমিক আলিনুর ফকিরকে কুপিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় নিহত আলিনুরের ভাই আমিনুর ফকির বাদী হয়ে রাজিব শেখকে প্রধান আসামি করে ১৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় ৫-৭ জনের বিরুদ্ধে লোহাগড়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।